ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাস ও থ্রি-হুইলারের দ্বন্দ্বে অচল বরিশালের সড়ক

দুই দিনে ১৪ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে পাঁচ জেলার যাত্রীরা

বাস ও থ্রি-হুইলারের দ্বন্দ্বে অচল বরিশালের সড়ক
×

ছবি-সমকাল

বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৪২

যাত্রী তোলা নিয়ে বাস ও থ্রি-হুইলার শ্রমিকদের বিরোধে গত দুই দিন ধরে অস্থিরতা চলছে বরিশালের পরিবহন খাতে। পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও ধর্মঘটে সোমবার চার ঘণ্টা এবং মঙ্গলবার প্রায় ১০ ঘণ্টা দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচ জেলার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

বরিশাল মহানগর-সদর আসনের বিএনপি দলীয় এমপি মজিবর রহমান সরোয়ারের দুই সহোদর মোশারফ হোসেন ও মিজানুর রহমান অহিদ পরিবহন খাতের দুটি সংগঠনের শীর্ষ পদে রয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মোশারফ হোসেন নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি এবং অহিদ থ্রি-হুইলার মালিক সমিতির সভাপতি হন। এরপর থেকেই পরিবহনের এ দুটি খাতে তাঁদের প্রভাব রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন থ্রি-হুইলার শ্রমিককে বাস শ্রমিকরা মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর জেরে বেলা ১১টার দিকে বানারীপাড়া উপজেলার শিমুলতলা এলাকায় থ্রি-হুইলার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে কয়েকটি বাস আটকে দেন।

এর প্রতিবাদে দুপুর ১২টার দিকে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় মহাসড়কে বাস এলোপাতাড়ি রেখে যান চলাচল বন্ধ করে দেন বাস শ্রমিকরা। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে বিকেল ৪টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তবে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর এলাকায় অবস্থান নিয়ে আবারও বিক্ষোভ করেন থ্রি-হুইলার শ্রমিকরা। এ সময় তাঁরা অভ্যন্তরীণ রুটের কয়েকটি বাস আটকে যাত্রীদের নামিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে ধর্মঘটের ডাক দেন বাস মালিক-শ্রমিকরা। এতে বরিশালের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাস চলাচল ফের শুরু হয়।

‘সংগঠনের বিষয় পারিবারিকভাবে হয় না’

জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশারফ হোসেন মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে সমকালকে বলেন, জেলা প্রশাসক আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার খরচ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। থ্রি-হুইলার শ্রমিকরা ভবিষ্যতে অরাজকতা করবেন না বলে আশ্বাস দেওয়ায় তাঁরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন।

ছোট ভাই মিজানুর রহমান অহিদ থ্রি-হুইলার মালিক সমিতির সভাপতি হওয়ায় বিষয়টি পারিবারিকভাবে বসে সমাধান করা যায় কি না, জানতে চাইলে মোশারফ হোসেন বলেন, ‘সংগঠনের বিষয় পারিবারিকভাবে হয় না।’

থ্রি-হুইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কালু মিয়া বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বাস কাউন্টারের সামনে থেকে থ্রি-হুইলারে যাত্রী তোলা যাবে না। বুধবার প্রশাসনের উপস্থিতিতে থ্রি-হুইলারের যাত্রী তোলার সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

দুই ভাই মোশারফ ও অহিদ ঘরোয়া আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করলে শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ কমবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও থ্রি-হুইলার মালিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান অহিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘আইন প্রয়োগে কোনো ব্যক্তিকে চিনব না’

জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার সমকালকে বলেন, বাস ও থ্রি-হুইলার মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ কারণেই তুচ্ছ ঘটনাতেও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, দুই পক্ষকে মিলেমিশে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা না হলে সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতা সহোদর হওয়া সত্ত্বেও এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হচ্ছে, জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এরপর আমরা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে চিনব না। কোনো ব্যক্তির জন্য জনগণের দুর্ভোগ মেনে নেওয়া হবে না।’

আরও পড়ুন

×