নাতে রাসুলে মুখর পটিয়া, জশনে জুলুসে মানুষের ঢল
পটিয়ায় বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:১৬
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামের পটিয়ায় বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণে বুধবার সকালে আয়োজিত এ জুলুসকে ঘিরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও পটিয়া সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
আমির ভাণ্ডার কমপ্লেক্স ও আমির ভাণ্ডার সংসদের ব্যবস্থাপনায় সকাল ৯টায় আমির ভাণ্ডার দরবার থেকে জশনে জুলুস শুরু হয়। এর আগে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দরবার এলাকায় জড়ো হতে থাকেন।
জুলুসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। এ সময় আমির ভাণ্ডার কমপ্লেক্স ও সংসদের নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন।
জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁরা দরুদ, নাতে রাসুল ও বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগানে মুখর করে তোলেন পুরো পথ। অনেকের হাতে ছিল ধর্মীয় বার্তাসংবলিত প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও পতাকা।
আমির ভাণ্ডার দরবার থেকে বের হয়ে জুলুসটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক হয়ে পটিয়া সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় সড়কের দুই পাশে স্থানীয় মানুষের উপস্থিতিও দেখা যায়। নবীপ্রেমের আবেগ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
জুলুসে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত হিসেবে পৃথিবীতে আগমন করেছেন। তাঁর জীবন ও আদর্শে রয়েছে সত্য, ন্যায়, দয়া, ক্ষমা, ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার শিক্ষা। তাঁর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
আয়োজকরা বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জশনে জুলুসের মূল উদ্দেশ্য মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর জীবন ও মহান আদর্শ মানুষের সামনে তুলে ধরা। একই সঙ্গে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
তাঁরা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভাজন দূর করতে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা অনুসরণ করা জরুরি। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, অসহায় ও বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
পরে জুলুসটি আমির ভাণ্ডার দরবারে ফিরে শেষ হয়। কর্মসূচি শেষে দেশ, জাতি, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম
- ঈদে মিলাদুন্নবী