ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

তাসিনের মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সাইফুল: পুলিশ

তাসিনের মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সাইফুল: পুলিশ
×

শিশু আব্দুর রহমান তাসিন (৫) ও গ্রেপ্তার প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম (২৭)

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৪৯

সাভারের আশুলিয়ায় বাবার সঙ্গে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পাঁচ বছরের শিশু আব্দুর রহমান তাসিনের মুখের ভিতরে চাল ঢুকিয়ে ও মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী মো. সাইফুল ইসলামকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সাইফুল হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলেও পুলিশ জানায়।

বুধবার দুপুরে আশুলিয়া থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য জানান।

গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ভাদাইল পশ্চিমপাড়ার মো. হারুন অর রশিদের তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশু আব্দুর রহমান তাসিনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত শিশুটির বাবা মো. শহিদ মিয়া (৩৮) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেন।

গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এ হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দুই দফায় পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শেষ দফায় সাইফুল পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। পরে তাকে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা উত্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিহত শিশুর বাবার সঙ্গে আসামি সাইফুল ইসলামের আগে থেকে পরিচয় ছিল। একসঙ্গে চলাফেরা করতে গিয়ে তাদের মধ্যে লেনদেন সম্পর্কিত ব্যক্তিগত বিরোধ তৈরি হয়। মূলত সেই আক্রোশ ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরেই শিশু আব্দুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করেন সাইফুল।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ঘটনার পরের দিন গত ২০ আগস্ট প্রতিবেশী সাইফুল ইসলামকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য ও ঘরের আলামত বিশ্লেষণ করে আমরা জানতে পারি বাচ্চাটার মুখের ভেতরে চাল ভরে দেওয়া হয়েছিল। এরপর স্কচটেপ দিয়ে মুখ ও নাক পেঁচিয়ে দেওয়া হয়। তদন্তের সময় আসামির ঘর থেকে স্কচটেপ, ইলাস্টিক ও চাল উদ্ধার করা হয়। যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামতের সঙ্গে মিলে যায়।

তিনি আরও বলেন, আসামি সাইফুল ইসলামকে দুই দফায় দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ড শেষে সাইফুল ইসলাম বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে শিশুকে তাসিনকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত নয় বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×