ভৈরবে ডেঙ্গুতে একদিনে দুই মৃত্যু, ক্ষোভে সড়ক অবরোধ
ছবি-সংগৃহীত
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৩৫ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৪২
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার মধ্যে একদিনে দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মশক নিধনে প্রশাসনের অবহেলা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পৌর শহরের বঙ্গবন্ধু সরণির আইস কোং বেকারি এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এতে ভৈরব বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, ভৈরবে মশক নিধন কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত না হওয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এর মধ্যে বুধবার একই এলাকার জিদনী সীহাম (৪০) ও সৈয়দা বানু (৬৫) মারা যান। একদিনে দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ। তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে ভৈরব শহরে মশক নিধনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আশ্বাস দেন। পরে তাঁর আশ্বাসে রাত ৮টার দিকে অবরোধ তুলে নেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আহমেদ বলেন, তাঁর পরিবারের কয়েকজনসহ এলাকায় প্রায় ৪০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি জানান, ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা জিএম ইস্পাহানি মিয়ার ছেলে জিদনী সীহাম তিন দিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তাঁর শরীরে প্লাটিলেট আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বুধবার ভোরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে একই এলাকার বাসিন্দা সৈয়দা বানুও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা তৌকির আহমেদ বলেন, পৌর শহরের প্রধান প্রবেশপথ বঙ্গবন্ধু সরণির পাশে রেলওয়ে সড়কে বড় একটি ময়লার ভাগাড় রয়েছে। এছাড়া জিল্লুর রহমান সড়কের বাগানবাড়ি রোড এলাকাতেও ময়লার ভাগাড় রয়েছে। এসব ময়লার স্তূপে পলিথিন ও বিভিন্ন পাত্রে পানি জমে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। দ্রুত এসব ময়লার ভাগাড় অপসারণের দাবি জানান তিনি।
ইউএনও কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, ভৈরবে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পৌরসভার পক্ষ থেকে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ময়লা ব্যবস্থাপনার জন্য ডাম্পিং স্টেশনসহ বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তুতিও চলছে।