খাদ্যশস্যে গরমিলে সরকারি গুদাম সিলগালা, কর্মকর্তা বরখাস্ত
সিলগালা করা ঘিওর খাদ্য গুদামের গেট
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদাম সিলগালা করেছে খাদ্য বিভাগ। এ ছাড়া ওই খাদ্য গুদামের অফিসার ইনচার্জ অব লোকাল সাপ্লাই ডিপো (ওসি এলএসডি) বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মজুদের হিসাব ও প্রকৃত খাদ্যশস্যের পরিমাণ যাচাই করতে গিয়ে গরমিল পাওয়ার পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কাগজপত্রে মজুত দেখানো প্রায় ১১০ টন চাল ও ২০ টন গমের অস্তিত্ব বাস্তবে খাদ্য গুদামে পাওয়া যায়নি। এসব খাদ্যশস্যের বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা। গত বুধবার দুপুরে খাদ্য অধিদপ্তর ও মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল ঘিওর গুদাম পরিদর্শন করে। পরে দাপ্তরিক নথিপত্র ও মজুতের হিসাব যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় কাগজপত্রে ১১০ টন চাল ও ২০ টন গম মজুত থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও সরেজমিন গুদামে ওই পরিমাণ খাদ্যশস্য পাওয়া যায়নি। এ সময় পরিদর্শনে আসা টিমের সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে ওই গুদাম সাময়িকভাবে সিলগালা করেন। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার ওসি এলএসডি বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে ১৩০ টন খাদ্যশস্যের ঘাটতি কীভাবে হলো, সে সম্পর্কে গতকাল পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন মানিকগঞ্জ জেলার সব উপজেলা খাদ্য গুদামে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশেষ অডিট কার্যক্রম চলছে। এর অংশ হিসেবে বুধবার খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলার কর্মকর্তাদের একটি দল ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদাম পরিদর্শনে যায়। তারা গুদামের মজুত করা খাদ্যশস্যের হিসাব, খাতাপত্র ও দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রকৃত মজুত যাচাই করেন। এ সময় ওই গুদামে কাগজেকলমে খাদ্যশস্যে সঠিক হিসাব থাকলেও প্রকৃতপক্ষে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্যের ঘাটতি দেখতে পায় পরিদর্শন টিম।
ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার বলেন, ঘিওর খাদ্য গুদামে ১৫শ টন ধারণক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ অডিট কার্যক্রমে গুদামে হিসাবের গরমিল, তথ্যগত অসংগতি বা অন্য কোনো অনিয়ম রয়েছে কিনা, তা বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে। বুধবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করেছেন।
এ বিষয়ে ঘিওর উপজেলা খাদ্য গুদামের ওসি এলএসডি বিপুল কুমার সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে গুদামটি সিলগালা ও তদন্ত চলমান থাকায় তিনি এই বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. আইয়ুব রায়হান বলেন, খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার নিজ জেলা মানিকগঞ্জকে একটি মডেল খাদ্য জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাদ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিশেষ অডিট কার্যক্রম চলছে। এর অংশ হিসেবে বুধবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল ঘিওর খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করে। দাপ্তরিক হিসাব নিরীক্ষা ও প্রকৃত মজুত যাচাইয়ের সুবিধার্থে গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি অভিযোগ ছিল, ওই গুদামের খাদ্যশস্যের সঙ্গে প্রকৃত হিসাবের মিল নেই। পরিদর্শনকালে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই গুদামের বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্যের ঘাটতি রয়েছে। পরিদর্শনের টিমের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার খাদ্য অধিদপ্তর ঘিওর খাদ্য গুদামের অফিসার ইনচার্জ অব লোকাল সাপ্লাই ডিপো (ওসি এলএসডি) বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করে। ওই পদে নতুন কর্মকর্তা পদায়ন হলে গুদামটি খুলে দেওয়া হবে।
- বিষয় :
- খাদ্যপণ্য