ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খানাখন্দে চলাচলের অযোগ্য এক-তৃতীয়াংশ পাকা সড়ক

খানাখন্দে চলাচলের অযোগ্য এক-তৃতীয়াংশ পাকা সড়ক
×

গর্তে জমে থাকা পানি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে অটোরিকশা। গত ১৭ আগস্ট দুপুরে বরগুনার তালতলী-ছোটবগী সড়ক থেকে তোলা সমকাল

আবু জাফর সালেহ্, বরগুনা

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৪৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

বরগুনার আমতলী-তালতলী-সোনাকাটা সড়কের দৈর্ঘ্য ৩৮ কিলোমিটার। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগে এই সড়ক ছাড়া তালতলী উপজেলাবাসীর বিকল্প পথ নেই। এ ছাড়াও জেলা শহর ও আমতলী উপজেলা শহরগামী হাজারো মানুষ নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু সড়কটির প্রায় ২২ কিলোমিটার অংশের পিচ-খোয়া উঠে গেছে। এখানে-ওখানে গর্ত। এসব গর্তে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে। 

তালতলীবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটি সংস্কার বা নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।
জানা গেছে, জেলায় এলজিইডির আওতাধীন পাকা সড়কের মধ্যে প্রায় ৫০০ কিলোমিটারের অবস্থা একই– যা মোট পাকা সড়কের এক-তৃতীয়াংশ। পিচ-খোয়া উঠে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলজিইডি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বরাদ্দ না আসায় তারা সড়কগুলো মেরামত করতে পারছেন না। 
এসব সড়কের মধ্যে পড়েছে সদর উপজেলার বাঁশবুনিয়া-চালিতাতলী, গর্জনবুনিয়া-বাবুগঞ্জ, কাঁঠালতলী-নলী বাজার, বৈকালিন বাজার-আয়লা, বরগুনা-কালিরতবক, আমতলী উপজেলার ঘোপখালী-চরকগাছিয়া বাজার সড়ক, পঁচাকোড়ালীয়া-চান্দখালী, ছোটবগী-তালতলী সড়ক। 

আমতলী-তালতলী-সোনাকাটা সড়কের কচুপাত্রা এলাকায় গত ১৬ আগস্ট পাওয়া যায় অটোরিকশা চালক মো. রুবেল হোসেনকে। দিনে তাঁর আয় ৫০০-৭০০ টাকা। রুবেল বলেন, ‘রাস্তার যে অবস্থা, তাতে গাড়ি চালাইলে প্রত্যেক দিন হারা (মেরামত) লাগে। হ্যাতে (তাতে) গাড়ি চালাইয়া যা পাই, তা গাড়ি হারতেই শেষ হইয়া যায়। ঘরে টাকা-পয়সা নেওয়ার মতো কিছু থাহে না।’ 
এলজিইডির অধীনে বরগুনা জেলায় কাঁচাপাকা সড়ক রয়েছে সাত হাজার ৫৬১ কিলোমিটার। এর মধ্যে এক হাজার ৪৯৫ কিলোমিটার পাকা। ৪৭১ কিলোমিটার আধাপাকা। পাকা এক হাজার ৪৯৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে অন্তত ৫০০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে খানাখন্দ রয়েছে। এসব সড়কের দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। এ জন্য প্রয়োজন অন্তত ২৫০ কোটি টাকা। অথচ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জেলার সড়ক সংস্কারে এলজিইডির হাতে আছে মাত্র ১২ কোটি টাকা। এ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মাত্র ৪ দশমিক ৮০ ভাগ সড়ক মেরামত করা সম্ভব।
আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. দুলাল মিয়ার ভাষ্য, বছরের পর বছর রাস্তায় খানাখন্দ হয়ে পড়ে থাকলেও এলজিইডি কোনো পদক্ষেপ নেয় না। আবার কখনও সংস্কার করলেও তা দায়সারাভাবে করে। বছর যেতে না যেতেই এসব সড়ক আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 

বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, এসব সড়ক দিয়ে কোনো মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করলে অসুস্থ হওয়া যাওয়া ছাড়া তাঁর উপায় নেই। তাঁর দাবি, উপকূলীয় জেলা হিসেবে এসব সড়ক সংস্কারে সরকারকে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। অন্যথায় মানুষের দুর্ভোগ কোনোভাবেই কমবে না।
বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, তিন বছর পরপর পাকা সড়কগুলো সংস্কারের প্রয়োজন। সে অনুযায়ী জেলার দেড় হাজার কিলোমিটার সড়কের অন্তত ৫০০ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার জরুরি। এতে টাকার প্রয়োজন অন্তত ২৫০ কোটি। কিন্তু ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরগুনা জেলায় সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৮ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করতে হবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কাজের। বাকি ১২ কোটি টাকা দিয়ে যতটুকু সম্ভব সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দেন তিনি। এই কর্মকর্তা আরও বলেন, সড়ক মেরামতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বাড়তি বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

×