ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৌলভীবাজার

এনসিপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৮

চাঁদাদাবি ও সংঘর্ষের মামলায় গ্রেপ্তার ৫

এনসিপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৮
×

ছবি- সমকাল

মৌলভীবাজার ও কুলাউড়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ১১:২০ | আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ১১:২১

মৌলভীবাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে হামলা-পাল্টা হামলা, চাঁদাদাবি ও অপহরণের অভিযোগে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কুলাউড়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়াসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে কুলাউড়া থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে কুলাউড়া উত্তরবাজারের রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, এনসিপির জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমদসহ কয়েকজন নেতা মৌলভীবাজার সদর থেকে বড়লেখার দিকে যাচ্ছিলেন। তারা কুলাউড়া উত্তরবাজারের রেলক্রসিংয়ের কাছে একটি হোটেলের সামনে পৌঁছালে তাদের গাড়ির গতিরোধ করা হয়। এ সময় দলীয় প্রতিপক্ষ জেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক এহসান জাকারিয়ার নেতৃত্বে একটি গ্রুপ তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলায় তামিম আহমদ, সাফওয়ানসহ অন্তত আটজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা হামলাকারীদের মধ্যে পাঁচজনকে আটক করে কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

অন্যদিকে, এনসিপির মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক খালেদ আহমদ দাবি করেন, দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা ঢাকা থেকে কুলাউড়ায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। তাঁকে বিদায় জানাতে এহসান জাকারিয়াসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী কুলাউড়ায় যান। কয়েকজন নেতা উত্তরবাজারের রেলক্রসিং এলাকার একটি হোটেলে খাওয়া শেষে বের হওয়ার সময় পদবঞ্চিত তামিম আহমদসহ একটি গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কসহ পাঁচ নেতাকে আহত করে জিম্মি অবস্থায় পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

এদিকে, তামিম আহমদসহ তাঁর গ্রুপের কয়েকজনকে দলীয় কমিটিতে পদ-পদবি দেওয়ার কথা বলে এহসান জাকারিয়া পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং পরে হামলা চালানো হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এহসান জাকারিয়াকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার অন্য চারজন হলেন—তোফায়েল আহমদ (৩২), সাহেল আহমদ (২২), ফাহিম আহমদ জনি (২৮) ও সোহাগ মিয়া। সাহেল আহমদের বাড়ি রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার এলাকায়। অপর তিনজন মৌলভীবাজার পৌর এলাকা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ছাড়া অন্যদের দলীয় পদ-পদবি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক খালেদ আহমদ বলেন, এর আগে এই চক্র কেন্দ্রীয় নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িবহরে মৌলভীবাজারে হামলা করেছিল। পরবর্তী সময়ে অপহরণের নাটক সাজিয়ে মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এবারও জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কসহ অন্যদের ওপর হামলার পর পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করা হয়েছে। এসব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, পুলিশ তাঁদের মামলা নেয়নি। তাঁরা আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মামলার বাদী তামিম আহমদ বলেন, এহসান জাকারিয়া এনসিপির এক কেন্দ্রীয় নেতার ‘সোর্স’ হিসেবে বিভিন্ন কমিটিতে পদ-পদবি দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায় করতেন। একইভাবে তাঁরসহ কয়েকজনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কমিটিতে পদ দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে মৌলভীবাজারের কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী তাঁকে বড়লেখায় পৌঁছে দিতে কুলাউড়ায় এলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় কুলাউড়া থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে এহসান জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন তিনি।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, এনসিপির দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় নাম উল্লেখ করা ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। শুক্রবার দুপুরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে মৌলভীবাজার আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন

×