নারীর শ্লীলতাহানির চেষ্টার জেরে সংঘর্ষ, আহত ১১
কলাপাড়ার বানাতী বাজার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৪৬
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বাকপ্রতিবন্ধী এক নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার জেরে ব্যবসায়ীদের দুই পক্ষে দুই দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার সকালে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের বানাতী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর থেকে বাজারের দোকানপাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বানাতী বাজারে রমনী (৪০) নামের এক ব্যক্তির চুল কাটার দোকান (সেলুন) রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর সেলুনের সামনে থেকে বাকপ্রতিবন্ধী এক নারী হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় রমনী ওই নারীর হাতে টান দিয়ে সেলুনে ঢুকিয়ে ফেলেন। তাঁর শ্লীলতাহানির চেষ্টার সময় কয়েকজন ব্যবসায়ী বিষয়টি দেখে ফেলেন। এতে ভুক্তভোগী রক্ষা পান।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের ভাষ্য, এ ঘটনা মীমাংসার জন্য গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সালিশে বসেন ব্যবসায়ী ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা। এ সময় রমণীকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করে গ্রাম পুলিশের জিম্মায় দেওয়ার প্রস্তাব করেন এক পক্ষ। অপর পক্ষ এতে রাজি না হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী জুয়েল রমণীকে নিজ জিম্মায় নিতে আগ্রহী হন।
বিষয়টি নিয়ে জুয়েলের সঙ্গে বানাতী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রুবেল হাওলাদারের তর্কাতর্কি হয়। সেখানে উভয়পক্ষের মারামারিতে রুবেল হাওলাদারসহ দুই-তিনজন আহত হন।
ব্যবসায়ী নেতার ওপর হামলার বিচার দাবিতে ব্যবসায়ীরা শুৃক্রবার সকালে বাজারের প্রায় তিন শতাধিক দোকান বন্ধ করে দেন। তারা বাজারে অবস্থান নিলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এতে জুয়েল, জুবায়ের, ইমরান, মনির ও কামালসহ ৮ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে সাতজন কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
বানাতী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা হেমায়েদ উদ্দিন হিরন পুরো ঘটনার বিচার দাবি করেন। না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বানাতী বাজারের দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তিনি।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, তারা বানাতী বাজারে মারামারির বিষয়টি শুনেছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
ঘেরের দ্বন্দ্বে আহত ১৫ জন
এদিকে মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ১৬ একর আয়তনের একটি ঘের দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের উত্তর সুতালড়ী গ্রামে এই সংঘর্ষ হয়।
আহত ব্যক্তিরা রাত ৯টার দিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, গুরুতর আহত অবস্থায় নাজিম মাহমুদ জুয়েল (৪৫), মাহবুব জমাদ্দার (৫০), লিটন সরকার (৪৫) ও জুয়েল চৌকিদার (৩০) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাজীব হাওলাদার (২৫), মারুফ হাওলাদার (২৭), লিয়াকত হাওলাদার (৪৫) ও শহিদ হাওলাদারকে (৫০) বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন মাসুদ শেখ রিদয় (২৭), এনায়েত ফকির (৩৮), ইব্রাহিম খলিল (২৮), সুজন তালুকদার (২৫) ও সুমন তালুকদার (৪০)।
নিজেকে ঘেরটির মালিক দাবি করে নাজিম মাহমুদ জুয়েল বলেন, রাকিব হাওলাদারের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ঘেরে হামলা করে। এতে ১১ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
রাকিব হাওলাদারের অভিযোগ, জুয়েলের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন বহিরাগত ঘেরটিতে হামলা চালিয়ে মাছ লুটপাট করে। এক পর্যায়ে ঘেরের গৈঘরে অগ্নিসংযোগও করা হয়। এলাকাবাসী বহিরাগতদের ধাওয়া করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
মোরেলগঞ্জ থানার ওসি কৃষ্ণপদ সরকার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি এখন শান্ত। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।