দুমকীতে যুবদলের কমিটির বিরোধে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১২
শুক্রবার বিকেলে উপজেলা পরিষদের সামনে এ সংঘর্ষ হয়। এতে পথচারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। ছবি: সমকাল
পটুয়াখালী ও দুমকী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৩২
পটুয়াখালীর দুমকীতে জাতীয়তাবাদী যুবদলের নবগঠিত কমিটিকে ঘিরে পদধারী ও পদবঞ্চিত নেতাদের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের উপজেলা পরিষদের সামনে এ সংঘর্ষ হয়। এতে পথচারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে চারটি মোটরসাইকেল।
গত বুধবার দুপুরে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে জেলার দুমকী উপজেলায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পদবঞ্চিত নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেলা বিএনপির রাজনীতিতে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপির অনুসারীদের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটনের অনুসারীদের। নতুন কমিটিতে পদ পেয়েছেন আলতাফ হোসেন চৌধুরীর অনুসারীরা।
যুবদল সূত্র জানায়, কমিটি ঘোষণার পর থেকেই শহরে টানটান উত্তেজনা দেখা দেয়। দুই পক্ষই মহড়ার মাধ্যমে নিজ শক্তি দেখানোর প্রস্তুতি নেয়। শুক্রবার বিকেলে পদধারী নেতারা আনন্দ মিছিলের জন্য উপজেলা পরিষদের পশ্চিম গেটে অবস্থান নেন। মিছিল প্রতিহত করতে মাঠে নামেন পদবঞ্চিতরাও। তারা উপজেলা পরিষদের পূর্ব গেটে অবস্থান নেন।
দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। এক পর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বেধে যায়। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পদবঞ্চিত অংশের নেতাকর্মীদের ধাওয়ায় নবগঠিত কমিটির পদধারী গ্রুপটি পিছু হটে। সর্বশেষ সংবাদ পাওয়া পর্যন্ত পুরো শহরের নিয়ন্ত্রণ নেন যুবদলের পদবঞ্চিত নেতারা।
দুমকী উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক ও পদবঞ্চিত নেতা মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘যুবদলের ঘোষিত পকেট কমিটি আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। এ কমিটি বাতিলের দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। এ অযোগ্য কমিটি যতদিন পর্যন্ত বাতিল না হয় ততদিন পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।’
উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদ ইসলাম রুবেল বলেন, ‘সংঘর্ষে আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তবে, কতজন আহত হয়েছেন, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। গুরুতর আহত আব্দুল ওহাব নামে এক কর্মীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বিস্তারিত মন্তব্য পরে করব।’
দুমকী থানার ওসি মো. সেলিম উদ্দিন জানান, যুবদলের নবগঠিত কমিটিকে ঘিরে পদবঞ্চিত ও পদধারীরা একই জায়গায় কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ কারণে বড় কোনো ঘটনা ঘটতে দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি যুবদলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।