ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভ্যাকসিনের অভাবে বাঁচানো যাচ্ছে না ল্যাম্পি স্কিন আক্রান্ত গরু

ভ্যাকসিনের অভাবে বাঁচানো যাচ্ছে না ল্যাম্পি স্কিন আক্রান্ত গরু
×

 সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী (পাবনা) 

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

পাবনার ঈশ্বরদীতে ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে গত এক মাসে অন্তত আড়াইশ’ গরুর মৃত্যু হয়েছে। গরুর এই রোগ প্রতিরোধকারী ভ্যাকসিনের সরবরাহ না থাকায় আক্রান্ত গরুর চিকিৎসাও দিতে পারছে না প্রাণিসম্পদ বিভাগ। বারবার ভ্যাকসিনের চাহিদাপত্র ঢাকায় পাঠানো হলেও ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঈশ্বরদীতে কৃষক ও খামারে গরু রয়েছে প্রায় এক লাখ তিন হাজার। এর মধ্যে এ বছর ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে ২০ থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি গরু। 

প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী ঈশ্বরদীতে এ রোগে আক্রান্ত প্রতি ২৫টি গরুর মধ্যে অন্তত ১০টি গরু মারা যাচ্ছে। তবে আক্রান্ত বাছুরের বেশির ভাগ বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না। গরু মৃত্যুর এই পরিমাণ রীতিমতো উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলার পাকশী, সাঁড়া, সলিমপুর, দাশুড়িয়া, লক্ষ্মীকুন্ডা, মুলাডুলি ও সাহাপুর ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে কৃষক ও খামারিরা গরুর মৃত্যু নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকে মৃত্যুর আশঙ্কায় কম দামে তাদের গরু বিক্রিও করে দিচ্ছেন।  

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. ফারুক হোসেন জানান, উপজেলার প্রতিটি বাড়িতেই একাধিক গরু বিশেষ করে বাছুরগুলো ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা গরুকেও ভ্যাকসিনের অভাবে বাঁচানো যাচ্ছে না।    
ভুক্তভোগী কৃষক ও খামারিদের অনেকে তাদের গরুকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করার জন্য গরুসহ এসেছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও হাসপাতালে। কিন্তু ভ্যাকসিন না থাকায় কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের মৌখিক ‘পরামর্শ’ নিয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে খামারিদের। কৃষক আলতাব হোসেন বলেন, কৃষি কাজ করে এমনিতেই নানাভাবে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে প্রান্তিক কৃষকদের। তার ওপর এ বছর ল্যাম্পি স্কিন রোগে গরু আক্রান্ত হওয়ায় গরুর চিকিৎসা করাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। সরকারিভাবে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে আক্রান্ত গরু নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকত না। কিন্তু ভ্যাকসিন না পেয়ে আমরা গরুকে বাঁচাতে পারছি না। 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন জানান, ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত প্রতিটি গরুকে ইনজেকশনের মাধ্যমে ২ এম.এল. পরিমাণ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা গেলে এ রোগ থেকে গরু বাঁচানো সম্ভব। প্রতিটি বোতলের বাজার মূল্য ২৩শ’ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। ভ্যাকসিনের একটি বোতলে (ভায়াল) যে পরিমাণ প্রতিষেধক থাকে তাতে এক বোতলের ভ্যাকসিন দিয়ে ১০টা গরুর শরীরে প্রয়োগ করা যায়। কিন্তু সরকারিভাবে এ ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় আক্রান্ত গরুকে তারা ভ্যাকসিন দিতে পারছেন না বলে জানান এই কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, ভ্যাকসিন সংকট দূর করা গেলে বিপুলসংখ্যক আক্রান্ত গরুকে বাঁচানো সম্ভব। নয়তো ভ্যাকসিনের অভাবে এবং রোগ ছড়িয়ে পড়ে গরু মৃত্যুর হার আরও বাড়তে পারে। 

আরও পড়ুন

×