নামকরণের দ্বন্দ্ব
ভৈরবের সেই বাজারে আবারও সংঘর্ষ
ছবি: সমকাল
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৪২
বাজারের নাম নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জেরে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আবারও সংঘর্ষ হয়েছে। রোববার দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কিছু দোকান ও ঘরবাড়ি। গত ২৭ জুলাই একই দ্বন্দ্বের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রাম ঘেঁষে গেছে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক। মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড ও বাজারের নামকরণ নিয়ে কয়েক দশক আগে বিরোধের সূত্রপাত। আকবরনগরের বাসিন্দাদের দাবি, বাসস্ট্যান্ড এলাকাটি আকবরনগরে, তাই বাসস্ট্যান্ড ও বাজারের নাম আকবরনগর হতে হবে। মিরারচরের বাসিন্দারা বাজারটিকে মিরারচর বাসস্ট্যান্ড নামকরণের দাবি জানান। এই নিয়ে গত ১৫ বছরে রোববারের সংঘর্ষসহ পাঁচ দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ তাদের নিয়ে সালিশে বসেও সুরাহা করতে পারেনি। কয়েক বছর আগের এক সালিশে সিদ্ধান্ত হয়, বাসস্ট্যান্ডটিকে মিরারচর ও আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড বলা হবে। বাজার কমিটির নেতারাও ক্যাশমেমো ও সাইনবোর্ডে আকবরনগর-মিরারচর একসঙ্গে লেখার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্ত কেউ মানছিলেন, কেউ অমান্য করছিলেন।
এই বিরোধের জেরে গত ২৭ জুলাই টানা সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে দুই গ্রামের বাসিন্দার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মিরারচর গ্রামের মাসুদ মিয়া (৩৭) ও হিরণ মিয়া (৩২)। ভৈরব থানা সূত্র জানায়, রোববার দুপুর ১টায় মিরারচর গ্রামের যুবকেরা বাজারে গেলে আকবরনগরের কিছু যুবক তাদের আটকে মারধর করে। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে দুই পক্ষ ইটপাটকেল, লাঠিসোঁটা, দা, বল্লম ও টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ, র্যা ব ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলামের নেতৃত্ব বিএনপি নেতারা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আহতদের মধ্যে নজরুল মিয়া (৩০), রানা মিয়া (১৯), তাহের মিয়া (৫০), স্বপন মিয়া (২৮) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। অন্যরা বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যান।
মিরারচরের খলিল মিয়া বলেন, ‘এক মাস আগে আমাদের পক্ষের দুইজনকে হত্যা করেছে আকবরনগরের লোকজন। আজকে আমাদের এলাকার দুইটা ছেলেকে মারধর করেছে। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে তারা হামলা করে। আমরাও প্রতিহত করি।’
আকবরনগরের সামাদ মিয়ার অভিযোগ, তাদের পক্ষের লোকজন কিশোরগঞ্জ আদালতে জামিনের জন্য গেলে বিচারক কারাগারে পাঠিয়ে দেন। এই খবরে মিরারচরের লোকজন তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা করে। প্রতিহত করতে গেলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোববার দুপুরে সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে সহায়তা করেন। আইনগতভাবে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, দুই গ্রামবাসীর শান্তি চান তারা।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ভৈরব সার্কেল) আবু মুছা শেখ বলেন, বাজারের নামকরণ নিয়ে আবারও দুই গ্রামবাসী আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে। বিএনপির নেতারা ও ভৈরব থানা ওসিকে নিয়ে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কয়েকটি টিয়ারগ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। গতকল