ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল

জোটে শুধু আশ্বাস, ভাঙন রোধে ব্যবস্থা মেলে না

জোটে শুধু আশ্বাস, ভাঙন রোধে ব্যবস্থা মেলে না
×

ছবি: ফাইল

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৪

মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের অব্যাহত ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রোমজাইপুর গ্রামটি। তীরে একের পর এক ভাঙছে বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও মাছের ঘের। এমনকি বৈদ্যুতিক খুঁটিও নদীতে ধসে পড়েছে। ইতোমধ্যে জমি-বসতভিটা হারিয়ে এলাকা ছেড়েছেন অনেকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাঙনরোধে বারবার আশ্বাস দিলেও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

গতকাল রোববার দুপুরে মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের রোমজাইপুরের ভাঙনকবলিত এলাকায় মানববন্ধনে অংশ নেনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকশ মানুষ। সেখানে মা-বাবার সঙ্গে এসেছিল সাত বছরের নাবিদ হাসান। তার হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘খোদার কাছে বিচার দিলাম।’ নাবিদের মা সাজেদা বেগম বলেন, ‘প্রতিবছর নদীভাঙনে আমরা এখন নিঃস্ব। মাথা গোঁজার ঠাঁইও নেই। অল্প একটু জায়গায় কোনোরকম মাচা করে থাকি। কত দাবি জানিয়েছি একটি বাঁধের জন্য। সরকার যায়, সরকার আসে– আমরা শুধু আশ্বাসই পাই, সমাধান হয় না।’

কর্মসূচিতে ‘টেকসই বাঁধ চাই’, ‘আওয়াজ তোলো বাঁধ গড়ো’, ‘এক দফা এক দাবি, ভাঙন রোধে বাঁধ চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে নানা বয়সী মানুষ অংশ নেন। সেখানে বাড়িঘর হারানোর বর্ণনা দেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন নদীভাঙনের কারণে রোমজাইপুর ও আশপাশের এলাকার বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাদের অভিযোগ করেন, নদীর স্রোতের পাশাপাশি জাহাজ চলাচলের কারণে সৃষ্ট ঢেউয়ে ভাঙন আরও বাড়ছে। নদীখননের নামে অপরিকল্পিত কাজও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের রোমজাইপুর গ্রামের তিন পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলটি। এটি স্বীকৃত আন্তর্জাতিক নৌপথ। কয়েক বছরের ভাঙনে রোমজাইপুর, সিঙ্গাইরবুনিয়া, ওড়াবুনিয়াসহ কয়েকটি গ্রামের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। নতুন করে সম্প্রতি আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। পেড়িখালি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রোমজাইপুর সড়কের বিভিন্ন জায়গাসহ ফসলি জমিও ধসে পড়েছে। জোয়ারে পানির উচ্চতা বাড়লে একমাত্র সড়কটি দিয়েও যাতায়াত করা যায় না।

স্থানীয় বাসিন্দা তুহিন মোল্লা ও ফিরোজ মাঝির ভাষ্য, নদীভাঙনের কারণে মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুধু বেড়িবাঁধ নির্মাণ করলে হবে না, নদীভাঙনে যারা ঘরবাড়ি, জমি ও সম্পদ হারিয়েছেন, তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণও দিতে হবে।

তুহিন মোল্লার দেওয়া তথ্যমতে, এই ভাঙনের মূল কারণ গ্রামের বিপরীত পাশে থাকা চর। ভাঙন ঠেকাতে হলে চরটির বড় অংশ ড্রেজিং করতে হবে। এতে গ্রামমুখী তীব্র স্রোত বন্ধ হবে।

পেড়িখালী ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বয়জিৎ শেখ বলেন, বছরের পর বছর ধরে এলাকাটি নদীভাঙনের কবলে রয়েছে। বহু পরিবার বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়েছে। দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে পুরো গ্রাম নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংরক্ষিত ইউপি সদস্য রিনা বেগম হিনা বলেন, প্রতিদিন  এলাকাবাসী আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এখন কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে রোমজাইপুরের অস্তিত্ব মুছে যাবে।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বিভাগের (বাপাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল বলেন, ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রোমজাইপুরের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীও দেখে গেছেন। এই এলাকার ভাঙন রোধের জন্য একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদন হলে কাজ শুরু করবেন।

আরও পড়ুন

×