ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতকানিয়ায় যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ যুবদল ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে

সাতকানিয়ায় যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ যুবদল ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে
×

নিহত জাহেদুল ইসলাম

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:৪৫ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:০৮

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে জাহেদুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা মোহাম্মদ ওয়াহিদ (২৮) আহত হয়েছেন।

রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পুরানগড় গ্রামের ভাঙারগোড়া এলাকার ফরিদ সওদাগরের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জাহেদুল ইসলাম পুরানগড় ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কালীনগর গ্রামের নুরুল ইসলাম প্রকাশ সর্বহারা নুরুর ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, মাদক ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৫ আগস্ট রাতে পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের পুরোনো কার্যালয়ের সামনে থেকে দুটি আকাশমণি গাছ চুরির অভিযোগ ওঠে। পরে গাছ দুটি উদ্ধার করে নিলামের মাধ্যমে ২৫ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এর কয়েকদিন পর রাতে গাছ কাটার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে জাহেদকে দেখা না গেলেও উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রদল নেতা জয়নাল আবেদীন মানিক গাছ চুরির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন।

এরই মধ্যে রোববার রাতে নতুনহাটে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রস্তুতিমূলক সভা চলাকালে জাহেদের সঙ্গে মানিকের দেখা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সেখানে গাছ চুরির অভিযোগ নিয়ে জাহেদ মানিককে চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে মানিকসহ কয়েকজন তাঁকে ধাওয়া করলে জাহেদ মোটরসাইকেলযোগে বাজালিয়ার দিকে চলে যান।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাহেদ ও তাঁর বন্ধু ওয়াহিদ বাজালিয়া থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে দক্ষিণ পুরানগড়ের ভাঙারগোড়া এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল লোক সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের গতিরোধ করে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জাহেদকে কুপিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

স্থানীয়রা জাহেদকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা ওয়াহিদও আহত হন। তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ হারুনর রশীদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জাহেদকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে অটোরিকশায় হাসপাতালে পাঠান।

নিহতের মামা শাহেদ আলী অভিযোগ করেন, মিষ্টি জসিম, রিদোয়ান, মানিক, মিষ্টি টিপু, হাবীব, রাজা মিয়া ও তাঁর ছেলেসহ আরও অনেক লোক জাহেদকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় তাঁরা মামলা করবেন বলে জানান।

অভিযোগের বিষয়ে পুরানগড় ইউনিয়ন বিএনপির সংগঠক জসিম উদ্দিন প্রকাশ মিষ্টি জসিম বলেন, জাহেদ নতুনহাটে এসে মানিককে মারধর করে চলে যান। ঘটনার সময় তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রস্তুতিমূলক সভায় ছিলেন। পরে বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব চুরির বিষয়ে রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে ছিলেন। জাহেদের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযুক্ত যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পুলিশ তাঁদের বাড়িতে অভিযান চালালেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী রাজিব ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল ইসলামও বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের স্বজন ও আহত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে। অভিযুক্তদের কয়েকজনের বাড়িতে অভিযান চালানো হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়নি।

আরও পড়ুন

×