ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুন হওয়া জাহেদকে ‘পিচ্চি জাহেদ’ বলে গুজব, যা বলছে পুলিশ

খুন হওয়া জাহেদকে ‘পিচ্চি জাহেদ’ বলে গুজব, যা বলছে পুলিশ
×

ফাইল ছবি

আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৪০

সাতকানিয়ায় জাহেদুল ইসলাম (৩০) নামের এক যুবক খুন হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, নিহত ব্যক্তি চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) তালিকাভুক্ত এক নম্বর দুষ্কৃতকারী মো. জাহেদ ওরফে ‘পিচ্চি জাহেদ’। তবে পুলিশের অপরাধের তথ্যভান্ডার (পিসিপিআর) যাচাই করে জানা গেছে, নিহত জাহেদুল ইসলাম ও ‘পিচ্চি জাহেদ’ একই ব্যক্তি নন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পুলিশ বলছে, দুজনের নাম ও উপজেলা একই হওয়ায় এ বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাদের বাবার নাম, গ্রামের ঠিকানা এবং অপরাধের রেকর্ড আলাদা।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, নিহত জাহেদুল ইসলামকে সিএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ দুষ্কৃতকারী ‘পিচ্চি জাহেদ’ হিসেবে উল্লেখ করে যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। ‘পিচ্চি জাহেদ’ জীবিত আছেন। নিহত জাহেদুল ইসলাম অন্য ব্যক্তি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ‘পিচ্চি জাহেদের’ বাবার নাম মো. ইউনুচ। তার বাড়ি সাতকানিয়ার বাজালিয়া ইউনিয়নের বড়দুয়ারা সিকদারপাড়ায়। অন্যদিকে নিহত জাহেদুল ইসলামের বাবার নাম নুরুল ইসলাম, যিনি ‘সর্বহারা নুরু’ নামে পরিচিত। জাহেদুলের বাড়ি উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচ ঘইগড়া পাড়ায়।

সড়কে গাছ ফেলে কুপিয়ে হত্যা
রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাতকানিয়ার পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পুরানগড় গ্রামের ভাঙারগোড়া এলাকায় ফরিদ সওদাগরের দোকানের সামনে জাহেদুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্বৃত্তরা সড়কে গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে জাহেদুলকে থামায়। এরপর তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে জাহেদুলের বিরোধ চলছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অপরাধের রেকর্ডেও পার্থক্য
পুলিশের পিসিপিআর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নিহত জাহেদুল ইসলামের নামে হত্যা, মাদক ও অস্ত্রসহ আটটি মামলা রয়েছে। আর সিএমপির তালিকাভুক্ত ‘পিচ্চি জাহেদের’ নামে রয়েছে ৩১টি মামলা।

চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরে ৩২৯ জন ‘দুষ্কৃতকারী’র প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সিএমপি। পুলিশের অপরাধের তথ্যভান্ডারে থাকা তথ্য ও অপরাধের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে ওই তালিকা করা হয়। তালিকায় প্রথম নাম ছিল মো. জাহেদ ওরফে ‘পিচ্চি জাহেদের’।

নাম ও উপজেলার মিল থাকায় নিহত জাহেদুল ইসলামকে ওই তালিকার ‘পিচ্চি জাহেদ’ বলে সোমবার দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ দুই ব্যক্তির পরিচয়, ঠিকানা ও অপরাধের রেকর্ড যাচাই করে জানায়, তারা আলাদা ব্যক্তি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়া কাম্য নয়। দুই ব্যক্তির পরিচয় ও বাড়ির ঠিকানা আলাদা-এটি পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।

আরও পড়ুন

×