বাগানে পৃথক সংঘর্ষ-হামলার ঘটনায় আহত অন্তত আট
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিসহ তিন দফা দাবি আদায়ের স্মারকলিপি দেওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে (লেবার হাউস) সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চা শ্রমিক নেত্রী গীতা রানী কানুসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার দুপুরে সাধারণ চা শ্রমিক ও ছাত্র-যুব সমাজের উদ্যোগে তিন দফা দাবি নিয়ে শ্রীমঙ্গল শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে স্মারকলিপি দিতে মৌলভীবাজার সড়কের লেবার হাউসে গেলে চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পালের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে জনক লাল দেশোয়ারা, গীতা রানী কানু ও রাধা মোহন নুনিয়া আহত হন। গুরুতর আহত জনক লাল দেশোয়ারাকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান তিন দফা দাবি ছিল– চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করা, অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা এবং আবাসস্থলের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন নারী ফোরামের আহ্বায়ক গীতা রানী কানু জানান, স্মারকলিপি দিতে গেলে তাদের ব্যানার কেড়ে নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় নিপেন পালসহ সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, গীতা রানী কানুর নেতৃত্বে একটি দল লেবার হাউস দখল করতে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। আমরা শুধু তাদের নৈরাজ্যকর আচরণ প্রতিহত করেছি। তিনি উল্টো ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা করবেন বলে জানান।
এদিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মৃগিঙ্গা চা বাগানে রাতে দায়িত্ব পালনকালে পাঁচ শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল হায়াত খান। হামলায় আহতদের প্রথমে বাগান হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের মৃগীঙ্গা চা বাগানের ২৬ নম্বর সেকশনের সীমানা গেটসংলগ্ন চৌকিদারদের ঘরে এ ঘটনা ঘটে। আহত শ্রমিকেরা হলেন–সুবল মুণ্ডা, রাজেশ হাজং, সুমন গড়, ফুল চাঁন উরাং ও রতন উরাং। তাঁরা সবাই ওই বাগানের স্থায়ী শ্রমিক এবং সেকশন চৌকিদারের দায়িত্বে ছিলেন।
- বিষয় :
- সংঘর্ষ