চুরি যাওয়া পান ‘আড়তে’, সংঘর্ষে আহত ১০
ফাইল ছবি
হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৫৪ | আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৪৭
রাতে ক্ষেত থেকে পান চুরি। সকালে সেই পানই বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে আসার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের পানের হাটে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—খলিসাকুণ্ডু গ্রামের সোহেল রানা (৩২), তৌহিদুল ইসলাম (৪৫), নাইন হোসেন (১৮), তুহিন আলী (১৯), আব্দুল লতিফ (৪৫), মাসুদ আলী (১৮) ও আব্দুর রশিদ (৪০) এবং ভবানীপুর গ্রামের হারুণ আলী (৪০), ছারুল ইসলাম (৫০) ও মানোয়ার হোসেন। তাঁদের মধ্যে আব্দুল লতিফের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতে কোনো একসময় খলিসাকুণ্ডু গ্রামের সোহেল রানা, শাহিদুল ইসলাম ও ফজলুর রহমানের পানক্ষেত থেকে পান চুরি হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ভবানীপুরের পানের বাজারে ব্যবসায়ী হারুণ আলীর আড়তে গিয়ে ভুক্তভোগীরা তাঁদের চুরি যাওয়া পান দেখতে পান বলে দাবি করেন। এ নিয়ে ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সোহেল রানা অভিযোগ করেন, তাঁদের তিনজনের ক্ষেত থেকে চুরি যাওয়া পান দেখতে পেয়ে ব্যবসায়ী হারুণের কাছে বিষয়টি জানতে চান। এ সময় হারুণ ও তাঁর লোকজন তাঁকে মারধর করেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে হারুণ আলী বলেন, তিনি নিজের প্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন। তখন সোহেলসহ কয়েকজন এসে গোলযোগ করেন এবং তাঁদের ওপর হামলা চালান। তাঁর ভাষ্য, প্রতিদিন অসংখ্য পানচাষি তাঁর কাছে পান বিক্রি করেন। কে কখন পান বিক্রি করতে আসেন, সবাইকে চিনে রাখা সম্ভব নয়।
প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল কাদের বলেন, বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ভবানীপুর গ্রামের কয়েকজন ব্যবসায়ী হারুণের পক্ষ নিয়ে এবং খলিসাকুণ্ডুর কয়েকজন ভুক্তভোগীদের পক্ষ নিয়ে ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মানোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, খলিসাকুণ্ডু গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ওহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়েছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ওহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁর ভাতিজাসহ কয়েকজনের চুরি যাওয়া পান বাজারে ওই ব্যবসায়ীর ঘরে পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীর লোকজন তাঁদের মারধর করেন।
হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।