রাশিয়ায় গ্যাস বিস্ফোরণে আহত
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন পাংশার আব্দুল কুদ্দুস
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৩:৩৭
জীবিকার তাগিদে রাশিয়া গিয়েছিলেন রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার আব্দুল কুদ্দুস। তবে জীবন নিয়ে ফিরতে পারলেন না, তাঁকে ফিরতে হচ্ছে নিথর দেহে। সাত দিন আগে সে দেশে গ্যাস কেমিক্যাল প্রকল্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহত হন তিনি। সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার আব্দুল কুদ্দুস মারা যান। ওই দিন সন্ধ্যায় মৃত্যুর খবর পায় তাঁর পরিবার।
আব্দুল কুদ্দুস পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের ধোপাকেল্লা গ্রামের মৃত মোমিন মোল্লার ছেলে। তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ছোটবেলায় বাবাকে হারানো আব্দুল কুদ্দুসের জীবন কেটেছে নানা কষ্টে। তাই পরিবারে সচ্ছলতা আনতে দেড় বছর আগে তিনি রাশিয়া যান। সেখানে সিনোপেক প্লান্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। গত ২৫ আগস্ট আমুর অঞ্চলে এজিসিসি নামের একটি প্রকল্পের সিনোপেক প্লান্টের সংযোগস্থলে প্রাথমিক গ্যাস সরবরাহ পরীক্ষার সময় পাইপ ফেটে আগুন ধরে গেলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। এতে অনেক কর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে আব্দুল কুদ্দুস ও রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভার চরমোদিপুর গ্রামের মনিরুল ইসলামও আহত হন। মনিরুল বর্তমানে মস্কোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।
আব্দুল কুদ্দুসের বড় ভাই আব্দুল আলীম জানান, গ্যাস বিস্ফোরণে আহত হওয়ার পর থেকেই তাঁরা মানসিক কষ্টে আছেন। ভাই আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন, অথচ তাঁকে দেখতে যেতে পারছেন না। সোমবার সন্ধ্যার দিকে তাঁরা তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন। এখন তাঁর একটাই চাওয়া, যেকোনো উপায়ে যেন ভাইয়ের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক বলেন, সোমবার সকালে রাশিয়ার একটি হাসপাতালে আব্দুল কুদ্দুস চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছেন বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। বিদেশে কেউ মারা গেলে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াগুলো প্রবাসী কল্যাণ সেল করে থাকে। তিনি নিহতের এনআইডিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের পাঠিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা যা করণীয়, তা করা হবে।