কবরস্থান থেকে পীরের মরদেহ তুলে দরবারে দাফনের অভিযোগ
ছবি: সমকাল
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:০৯
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত দরবার প্রধান আবদুর রহমান ওরফে ‘পীর’ শামীমের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থান থেকে তুলে তার নিজস্ব দরবার শরিফে পুনরায় দাফন করার অভিযোগ উঠেছে তার ভক্তদের বিরুদ্ধে।
নিহত ব্যক্তির স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার একটি স্থানীয় কবরস্থানে শামীমকে দাফন করা হয়েছিল। গত শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় তার ভক্তরা কবর খুঁড়ে মরদেহ তুলে নিয়ে যান। এরপর ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ প্রাঙ্গণে নতুন করে কবর তৈরি করে তা দাফন করা হয়।
নিহত দরবার প্রধানের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে আমরা কবরস্থানে গিয়ে মাটি খোঁড়া ও মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট আলামত দেখতে পাই। পরে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে নতুন একটি কবর খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তা দেখতে পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
খবর পেয়ে আজ শনিবার দুপুরে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে কবর স্থানান্তরের আলামত মিলেছে। দরবারের নতুন কবরে কঙ্কালসদৃশ অবশেষ দেখা গেছে। তবে সেটি শামীমেরই মরদেহ কি না, তা আইনগত ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং প্রাপ্ত নির্দেশনানুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, দরবার চত্বরে একটি কবর খুঁড়ে পলিথিনে মোড়ানো কঙ্কাল দাফন করা হয়েছে। কঙ্কালটি শামীমের কি না, তা আমরা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি। তবে ঘটনাটি সত্য হলে মরদেহ আগের কবরে নিয়ে যাওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে শামীমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই দিনই তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ভাই বাদী হয়ে কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা করেন।