কুমিল্লায় ধানকাটা শ্রমিক সেজে বৃদ্ধাকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৩
আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন অভিযুক্তরা
ছবি: সমকাল
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:০৩
কুমিল্লার চান্দিনায় ধানকাটা শ্রমিকের ছদ্মবেশে বাড়িতে অবস্থান করে গৃহকর্ত্রী ছমিরন খাতুনকে (৬০) হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কুমিল্লা। এ ঘটনায় জড়িত চারজনের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তরা আদালতে ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
শনিবার কুমিল্লা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন পিবিআই-এর পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালিরহাট গ্রামের জাফর আলীর ছেলে ও ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মো. মাসুম বিল্লাহ ওরফে রবিন (৩১), লাকসাম উপজেলার ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর এবং ঢাকার কদমতলী থানাধীন মদিনাবাদ এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে শরিফুল ইসলাম শান্ত (২৭)।
পিবিআই-এর পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমান সাংবাদিকদের আরও জানান, গত ৩ মে সকালে জেলার চান্দিনা উপজেলার অলিপুর গ্রামের নিজ বসতঘর থেকে ছমিরন খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘরের আসবাব এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ছেলে মো. বশির আহাম্মদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চান্দিনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। থানা-পুলিশের পর গত ১০ মে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন পিবিআই কুমিল্লার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম। তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে।
পিবিআই জানায়, আসামিরা আগে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফিশারি ঘাটে একসঙ্গে কাজ করত। তারা ভাসমান শ্রমিক হওয়ায় পরে ধানকাটা শ্রমিক সেজে চান্দিনায় ছমিরনের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কাজের দক্ষতা ও ধান নষ্ট হওয়া নিয়ে ঘটনার দিন রাতে ছমিরন খাতুনের সঙ্গে শ্রমিকদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে ছমিরন খাতুনের ঘরে ঢুকে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর নগদ ৭০ হাজার টাকা ও প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকারসহ মোট ৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে পালিয়ে যায় তারা।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এ ঘটনায় জড়িত চারজনের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।