বিএসএফের গুলিতে আহত মোশাররফ হাসপাতাল থেকে উধাও
ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৩২
ফেনীর ছাগলনাইয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ)-এর গুলিতে আহত মো. মোশাররফ (৪৫) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উধাও হয়ে গেছেন। আজ শনিবার দুপুরের পর থেকে তাকে আর হাসপাতালে দেখা যায়নি। মোশাররফ ছাগলনাইয়া উপজেলার জয়নগরের পচা মিয়ার বাড়ির বাসিন্দা।
এর আগে, গত শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে ছাগলনাইয়া থানার পূর্ব জয়নগর সীমান্ত এলাকার নিজ জমিতে চাষাবাদের সময় কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই আচমকা গুলি করে বিএসএফ। তাকে শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসার পর উধাও হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
আজ শনিবার দুপুরের পর থেকে উধাও হয়ে যান গুলিবিদ্ধ মোশাররফ। চমেক হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে ক্যাজুয়ালটি বিভাগের ৫ নম্বর শয্যায় চিকিৎসা চলছিল তার। দুপুরের পর থেকে তার শয্যাটি ফাঁকা পড়ে আছে। সেখানে পড়ে ছিল দুটি এক্স-রে ফিল্ম ও কিছু ওষুধের প্যাকেট।
তার উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন। তিনি জানান, চিকিৎসক ও নার্সরা দুপুর পর্যন্ত তাকে চিকিৎসা দেন। তারা ভেবেছিলেন, তিনি হয়তো কোনো দরকারে বাইরে গেছেন, আবারও ফিরে আসবেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পরও আজ বিকেল পর্যন্ত তিনি আর ফিরে আসেননি।
তার পাশের শয্যার রোগী ও স্বজনরা জানান, শনিবার সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সদস্য, গণমাধ্যমকর্মীসহ অনেকেই তার সঙ্গে কথা বলতে আসেন। তবে দুপুরের পর থেকে মোশাররফকে আর শয্যায় দেখা যায়নি। চিকিৎসক ও নার্সরা ওয়ার্ডের চারপাশে খুঁজেও তাকে পাননি। তিনি কী কারণে কাউকে না জানিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন, সে ব্যাপারে কেউ কিছুই জানাতে পারেননি।
ক্যাজুয়ালটি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, গুলিবিদ্ধ মোশাররফের শরীরে আনুমানিক ৮০ থেকে ১০০টি ছররা গুলি রয়েছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক বলেন, ছাগলনাইয়া উপজেলার জয়নগরের পচা মিয়ার বাড়ির মৃত মো. মোস্তফার ছেলে মোশাররফ নিজের কৃষিজমিতে কাজ করার সময় হঠাৎ বিএসএফের ছোড়া গুলি এসে পিঠের বাঁ পাশে বিদ্ধ হয়। স্থানীয় ব্যক্তিরা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে ভর্তি করেন। চিকিৎসকেরা তার শরীর থেকে গুলির অংশ বের করেছেন। তবে শরীরের ভেতরে আরও অনেক গুলির অংশ রয়েছে। শনিবার দুপুরের পর থেকে তাকে শয্যায় না পাওয়ার খবর শুনে আমরাও প্রথমে বিশ্বাস করিনি। কাউকে না বলে এভাবে চলে যাওয়ার পেছনের কারণ কী, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।