ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউএস ওপেন

গাঁজার তীব্র গন্ধে বিরক্ত সাবালেঙ্কা, আম্পায়ারের কাছে অভিযোগ

গাঁজার তীব্র গন্ধে বিরক্ত সাবালেঙ্কা, আম্পায়ারের কাছে অভিযোগ
×

ছবি- এএফপি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৪১ | আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৪৪

ইউএস ওপেনে অস্বস্তিকর এক অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছেন নারী এককের শীর্ষ বাছাই আরিনা সাবালেঙ্কা। গ্যালারি থেকে আসা গাঁজার তীব্র গন্ধে বিরক্ত হয়ে ম্যাচ চলার সময় আম্পায়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বেলারুশের এই তারকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুক্ষণ খেলা থামিয়ে রাখা হয়।

শুক্রবার লুইস আর্মস্ট্রং স্টেডিয়ামে তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে উজবেকিস্তানের কামিলা রাখিমোভার মুখোমুখি হন সাবালেঙ্কা। শুরুতেই ৩-০ গেমে এগিয়ে যান তিনি। এরপর নিজের দ্বিতীয় সার্ভিস গেমে ৩০-০ পয়েন্টে এগিয়ে থাকার সময় আচমকা গাঁজার গন্ধে অস্বস্তি প্রকাশ করেন শীর্ষ বাছাই। চেয়ার আম্পায়ার ইভা আসাদেরাকি-মুরেকে উদ্দেশ করে সাবালেঙ্কা বলেন, ‘কেউ গাঁজা খাচ্ছে। একটু দেখবেন? গন্ধটা খুব তীব্র।’ ঘটনার পর অবশ্য মনোযোগ ফিরে পান সাবালেঙ্কা। শেষ পর্যন্ত সরাসরি সেটে রাখিমোভাকে হারিয়ে চতুর্থ রাউন্ডে জায়গা করে নেন তিনি।

ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে সাবালেঙ্কার অবস্থানও ছিল বেশ স্পষ্ট। কারও ব্যক্তিগত আনন্দে তার আপত্তি নেই, তবে টেনিস কোর্টের আশপাশে ধূমপান না করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। হেসে সাবালেঙ্কা বলেন, ‘আপনারা যা খুশি করতে পারেন, যা খুশি ধূমপান করতে পারেন, যতটা সম্ভব আরাম করতে পারেন। কিন্তু দয়া করে টেনিস কোর্টের আশপাশে এটা করবেন না। সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় এমন গন্ধ সামলানো একটু কঠিন।’

ফ্লাশিং মেডোজে গাঁজার গন্ধের অভিযোগ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। অতীতেও খেলোয়াড়েরা ম্যাচ চলাকালে এমন গন্ধে মনোযোগে বিঘ্ন ঘটার কথা জানিয়েছেন। ইউএস ওপেন কমপ্লেক্সের ভেতরে ধূমপান নিষিদ্ধ হলেও নিউইয়র্কে ২১ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য বিনোদনমূলক গাঁজা সেবন বৈধ। ফলে আশপাশের ফ্লাশিং মেডোজ-করোনা পার্ক এলাকা থেকে আসা ধোঁয়া বাতাসের সঙ্গে স্টেডিয়াম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

সাবালেঙ্কা জানিয়েছেন, এবারের টুর্নামেন্টে এর আগেও গাঁজার গন্ধ পেয়েছেন তিনি। তবে শুক্রবারের মতো এত তীব্র গন্ধ আগে কোনো ম্যাচে পাননি। তার ধারণা, বাতাসের কারণেই বাইরের ধোঁয়া স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল।

এবারের ইউএস ওপেনে দর্শকদের আচরণ নিয়ে এটিই অবশ্য প্রথম বিতর্ক নয়। এর আগে ইনফ্লুয়েন্সারদের চিৎকার-চেঁচামেচি ও ভিডিও তৈরির কর্মকাণ্ডে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন নাওমি ওসাকা। লাক্সারি বক্সে থাকা কয়েকজন ইনফ্লুয়েন্সার ম্যাচ চলাকালে ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় আলো ব্যবহারসহ নানা কর্মকাণ্ড করছিলেন। এতে সার্ভ করার সময় মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যায় পড়ার কথা জানিয়েছিলেন ওসাকা।

ইনফ্লুয়েন্সারদের এমন আচরণ নিয়ে ইউএস ওপেনে আরও কয়েকজন খেলোয়াড় চেয়ার আম্পায়ারের কাছে অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। আম্পায়াররা সতর্ক করার পরও কেউ কেউ আবার একই ধরনের আচরণ শুরু করছেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্সের মতো সামাজিক মাধ্যমের জন্য কনটেন্ট তৈরি। ওই কনটেন্টের প্রপার শট নেওয়ার জন্য তারা কোনো কিছুরই পরোয়া করেন না।

আরও পড়ুন

×