ইউএস ওপেনে ইনফ্লুয়েন্সারদের উৎপাত!
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:১৬ | আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:১৬
ইউএস ওপেন উপভোগ করতে যাওয়া ইনফ্লুয়েন্সার বা নেটপ্রভাবীদের প্রতি একটি আহ্বান জানিয়েছেন জাপানি টেনিস তারকা নাউমি ওসাকা। তারা যেন গ্যালারিতে খেলা দেখার সময় দর্শকদের জন্য প্রণীত নিয়মগুলো মেনে চলেন। প্রথম রাউন্ডে আনাস্তিসিয়া জাখারোভার বিপক্ষে ম্যাচের সময় এ নেটপ্রভাবীদের চিৎকার-চেচামেচিতে সার্ভের সময় মনোসংযোগ রাখতে পারছিলেন না ওসাকা। যে কারণে প্রথম সেটটি জিততে টাইব্রেক পর্যন্ত যেতে হয়েছে। দ্বিতীয় সেটে ৪-৪ অবস্থায় সার্ভ করার সময় আবার মনোযোগ হারান তিনি। লাক্সারি বক্সে এই নেটপ্রভাবীরা তখন কনটেন্ট তৈরির জন্য দাঁড়িয়ে বিচিত্র অঙ্গভঙ্গিতে ভিডিও ও ছবি তুলছিলেন। এই সময় তারা আলাদা আলোও ব্যবহার করেন। এই নেটপ্রভাবীদের কার্যকলাপে শুধু ওকাসা একা নন, ইউএস ওপেনে অংশ নেওয়া প্রায় প্রত্যেক খেলোয়াড় বিরক্ত।
টেনিস দর্শকদের জন্যও নিয়ম আছে। খেলা চলাকালে খেলোয়াড়ের সামনাসামনি থাকা গ্যালারির দর্শকরা বসে থাকেন। এই নেটপ্রভাবীরা অনবরত ঘুরে ঘুরে ভিডিও করেন। খেলায় কী হলো না হলো সেদিকে তাদের কোনো খেয়াল থাকে না। তাদের এসব আচরণে বিরক্ত হয়ে এবারের ইউএস ওপেনে বেশ ক’জন খেলোয়াড় চেয়ার আম্পায়ারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। আম্পায়ার তাদের সতর্ক করলেও পরক্ষণে আবার ভুলে গিয়ে একই আচরণ শুরু করেন।
সেদিন ওসাকার অভিযোগের পর চেয়ার আম্পায়ার মাইকে ঘোষণা দিয়ে বক্সে থাকা ইনফ্লুয়েন্সারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, ‘আমার পেছনের বক্সে থাকা দর্শকদের দয়া করে বসার অনুরোধ করছি।’ তাঁর এই ঘোষণায় কর্ণপাত করেননি তাঁরা। তাঁদের মূল উদ্দেশ্য হলো ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্সের মতো সামাজিক মাধ্যমের জন্য কনটেন্ট তৈরি। ওই কনটেন্টের প্রপার শট নেওয়ার জন্য তাঁরা কোনো কিছুরই পরোয়া করেন না।
চলতি বছর ইউএস ওপেনে এই নেটপ্রভাবীদের উৎপাত রীতিমতো অত্যাচারের পর্যায়ে চলে গেছে বলে বেশ ক’জন খেলোয়াড় অভিযোগ করেছেন। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে ওসাকার ঘটনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্রের নাম্বার ওয়ান তারকা জেসিকা পেগুলা বলেন, ‘কোর্টে খেলোয়াড়রা পারফর্ম করার চেষ্টা করছেন, এটি তাঁর ক্যারিয়ার। কিন্তু ইনফ্লুয়েন্সাররা তাঁদের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করছেন। আমার মনে হচ্ছে, এ বছর একটু বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে (ইনফ্লুয়েন্সারদের উৎপাত)।’
খেলা চলাকালে চুপচাপ থাকাও টেনিস সংস্কৃতির অংশ বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি। এখন নাকি খেলা চলাকালে গ্যালারিতে হাসাহাসি, কথাবার্তা, চেচামেচি অনবরত চলতে থাকে। দুই দিন পর দ্বিতীয় রাউন্ড জিতে নেটপ্রভাবীদের ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন ওসাকা, ‘আমার মনে হয় কোনো খেলায় উপস্থিত থাকলে অবশ্যই সেই খেলাটার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা উচিত। আমার মতে, এটি ভদ্রতার প্রাথমিক পর্যায়ে পড়ে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘তারা খেলাটিকে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করে অনেক বেশি জনপ্রিয় করে তুলছেন, এটি অবশ্যই দারুণ ব্যাপার। তবে খেলায় যেন কোনো সমস্যা না হয় সেটি খেয়াল রাখতে হবে।’
ফরাসি টেনিস তারকা আদ্রিয়ান ম্যানারিনোর অভিযোগ গুরুতর। তাঁর মতে, এই ইনফ্লুয়েন্সাররা ইউএস ওপেনকে ‘চিড়িয়াখানা’ বানিয়ে ফেলেছেন। ম্যানারিনো বলেন, ‘তারা কেবল ভিডিও করে, ছবি তুলে, চেচামেচি করেই ক্ষান্ত থাকেন না। প্রায়ই তাদের অবস্থান করা গ্যালারি থেকে মারিজুয়ানার গন্ধ পাওয়া যায়।’
একই অভিযোগ করেছেন শীর্ষ বাছাই জার্মান টেনিস তারকা আলেকজান্দার জেরেভ। গ্যালারি থেকে মারিজুয়ানার গন্ধ পাওয়ার অভিযোগ ২০২৫ সালে ক্যাসপার রুড করেছিলেন। এবার যেন ওপেন সিক্রেট হয়ে গেছে ব্যাপারটা।