ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর

২১ দিন ধরে একঘরে ২০ সদস্যের পরিবার

কেউ যোগাযোগ করলেই ১০ হাজার টাকা জরিমানা

২১ দিন ধরে একঘরে ২০ সদস্যের পরিবার
×

ছবি: সমকাল

কিশোরগঞ্জ ও বাজিতপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:০৯

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে গ্রাম্য সালিশের একটি রায় মানতে রাজি না হওয়ায় ২০ সদস্যের একটি পরিবারকে একঘরে করে রাখা হয়েছে। ২১ দিন ধরে তাদের সঙ্গে এলাকার কেউ যোগাযোগ করেন না। ফলে বিপাকে পড়েছেন তারা। স্থানীয় বিএনপি নেতাসহ কিছু প্রভাবশালী নির্দেশ দিয়েছেন, কেউ যদি এই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বা লেনদেন করেন, তাঁকেও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী হবি মিয়া। তিনি হিলচিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সাতুটা গ্রামের মৃত ভেলু মিয়ার ছেলে। তাঁর ভাই রফিক মিয়ার পরিবারও একই দুর্ভোগের শিকার। এই পরিবারের একটি রাইস মিল আছে। সালিশকারীদের ভয়ে সেখানে কেউ ধান ভাঙাতে আসেন না। এক ভাই অটোরিকশার চালক। তাঁর রিকশায় কেউ উঠলেই জরিমানা দিতে হবে ভয়ে এলাকাবাসী তাঁকেও এড়িয়ে চলেন। ফলে তাদের আয়রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না।

এই পরিবারের প্রতিবেশী সেলিম মিয়া ও তাঁর ভাই শাহীন মিয়ার অভিযোগ, তাঁরা হবি ও রফিকের কাছ থেকে দেড় শতাংশ জায়গা কিনে কিছু টাকা পরিশোধও করেন। এখন তারা জায়গা দিতে অস্বীকার করছেন। 

তবে হবি মিয়ার দাবি, জায়গা বিক্রির কথাটা সত্য নয়। সেলিমরা তাদের কোনো টাকাও দেননি। এর পরও সম্প্রতি হিলচিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবিরাজ মিয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রিপন মিয়া, স্থানীয় মাতবর আদু মিয়া, আব্দুল কুদ্দুছ, আব্দুল মান্নান, রঙ্গু মিয়াসহ কয়েকজন সালিশ ডাকেন। সেখানে তারা রায় দেন, হবি ও রফিককে আরও দেড় লাখ টাকা দেবেন সেলিম ও শাহীন। বিনিময়ে তারা দেড় শতাংশ জায়গা বুঝিয়ে দেবেন। রায় মানতে রাজি হননি হবি মিয়া ও রফিক। এর পরপরই সালিশ থেকে তাদের একঘরে করার ঘোষণা দেওয়া হয়। 

হবি মিয়ার ভাষ্য, সালিশের পর থেকে মানুষ তাঁর রাইস মিলে ধান ভাঙাতে আসে না। ফলে রোজগার বন্ধ হয়ে পরিবার নিয়ে কষ্টে আছেন। রফিক মিয়া জানান, কেউ তাঁর অটোতে উঠলে বা তাঁকে কেউ অটোতে তুললে উভয়কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। ভয়ে কেউ অটোতে ওঠেন না। ফলে তাঁর আয়রোজগারও বন্ধ। ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। তারা এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি চান।

বক্তব্য জানতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিপন মিয়াকে একাধিকবার কল দিলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। অন্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি। হিলচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাজহারুল হক নাহিদ বিষয়টি নিয়ে কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন কিনা, প্রশ্ন করলে বলেন, এখন তো অন্য যুগ পড়েছে। সমস্যা নিয়ে এখন মানুষ চেয়ারম্যানের কাছে আসতে চায় না। হবি মিয়া আর সেলিমদের পরিবারও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তিনি ইউএনওর মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের আশা করছেন।

একটি সূত্রে জানা গেছে, ইউএনও জালাল উদ্দিন আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তাঁর কার্যালয়ে উভয়পক্ষসহ কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে নিয়ে ডেকেছেন। বক্তব্যের জন্য ইউএনওর সরকারি মোবাইল নম্বরে কয়েক দফায় কল দিলেও ধরেননি।

এ বিষয়ে বাজিতপুর থানায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম শহীদুল্লাহ। তিনি বলেন, জায়গার ক্রেতাপক্ষ তাঁকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, হবি মিয়ারা জমির টাকা নিয়ে অস্বীকার করছেন। জায়গা বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। তারা এর প্রতিকার দাবি করেছেন।

আরও পড়ুন

×