ঘাটাইলে বেসরকারি হাসপাতালে সরকারি ওষুধ
ভিডিও থেকে নেওয়া
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৪৭ | আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৫৪
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটক ঘেঁষে বেসরকারি লাইফ কেয়ার হাসপাতালের অবস্থান। এবার এই হাসপাতালে মিলেছে সরকারি ওষুধ। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এমনটি দেখা গেছে।
এর আগে গত সপ্তাহে রাতের আঁধারে একটি মিনি ট্রাকভর্তি ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলার সময় আটক করেন স্থানীয়রা। পার্শ্ববর্তী ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী এলাকার যমুনা নদীর ঘাটে ট্রাকটি আটক করা হয়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে এবার সরকারি ওষুধ বেসরকারি হাসপাতালে পাওয়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, লাইফ কেয়ার হাসপাতালের তিন তলার একটি কক্ষে রাখা আছে সরকারি বিভিন্ন ধরনের বেশ কিছু ওষুধ। বিশেষ করে সেখানে দামি ইনজেকশনের ভায়াল লক্ষ্য করা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে সামাজিক মাধ্যমে।
এ বিষয়ে লাইফ কেয়ার হাসপাতালের ইনচার্জ সাব্বির হোসেন বলেন, আমাদের হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের কখনও ওষুধ সরবরাহ করা হয় না। আর ভিডিওতে যে ইজেকশনের ভায়াল দেখানো হয়েছে তার সবগুলো ছিল ফাঁকা। ভেতর কোনো ওষুধ ছিল না।
তিনি আরও বলেন, এটি ছিল একটি সাজানো নাটক। এতে জড়িত ছিল আমাদের একজন নার্স। তাঁকে লাইফ কেয়ার হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আলমগীর কবির বলেন, আমি ওই ভিডিও দেখেছি। সরকারি হাসপাতালের ওষুধ কোনোভাবে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার নিয়ম নেই। সরকারি সব ওষুধের লেবেল এক থাকে। আমাদের ওষুধ বাইরে যাওয়ার কথা নয়। কোথা থেকে তারা (লাইফ কেয়ার হাসপাতাল) এ ওষুধ এনেছেন তা তারা ভালো বলতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, ঘাটাইল হাসপাতালের গত সপ্তাহের ওষুধকাণ্ডে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) আলমগীর কবিরকে (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা) প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দুই কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডা. আলমগীর কবির বলেন, তারা তদন্ত করেছেন এবং প্রতিবেদন তাদের কাছে আছে।
অন্যদিকে ওই ঘটনায় টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকেও পৃথকভাবে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। চার সদস্যের তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এ দুটি তদন্ত কমিটির বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডা. আলমগীর কবির বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সিভিল সার্জনের গঠিত কমিটির তদন্তের সময় বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে ওষুধ কেলেঙ্কারির ওই ঘটনায় ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নয়িম মুহাম্মদ সোহেলকে ওএসডি করা হয়েছে।
- বিষয় :
- টাঙ্গাইল
- সরকারি ওষুধ