ব্যবসায়ীদের মতামতের ভিত্তিতে কোম্পানি আইন সংশোধন হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি-সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৪১
ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মতামতের ভিত্তিতে কোম্পানি আইন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন ও অনলাইনে তথ্য আদান-প্রদানের মতো আধুনিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান আইনকে আরও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।
সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে কোম্পানি আইন-১৯৯৪-এর খসড়া সংশোধনী নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন ইতোমধ্যে দুই দফা সংশোধন করা হয়েছে। এবার তৃতীয় দফা সংশোধনের ক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ম ও পদ্ধতি সহজ করতে বিশ্বের যেসব দেশে আইন ও বিধিবিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেসব দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।
এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগামী তিন বছরে সরকারকে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কোম্পানি আইন সংশোধন সেই বৃহৎ কর্মপরিকল্পনারই একটি অংশ।
পাঁচ কৌশলগত লক্ষ্য
সভায় জানানো হয়, কোম্পানি আইনের সার্বিক আধুনিকায়ন এবং বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে পাঁচটি কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ তৈরি, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বাত্মক ব্যবহার নিশ্চিত করা, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আইনি ভিত্তি তৈরি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
কোম্পানি আইন সংশোধনের উদ্দেশ্য, প্রস্তাবিত পরিবর্তন ও এর যৌক্তিকতা তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার। বেসরকারি খাতের পক্ষে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির।
সভায় বেসরকারি খাতের সঙ্গে আলোচনা করে কোম্পানি আইন সংশোধনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশের সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘অতীতে দেখেছি, বেসরকারি খাতের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নীতি গ্রহণ করা হয়।’
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে কোম্পানি আইনই মূল আইন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ওপর অন্য কোনো আইন প্রাধান্য পাওয়া উচিত নয়।
তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি
মুক্ত আলোচনায় যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) অতিরিক্ত নিবন্ধক মো. নূর-ই-আলম বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আরজেএসসির বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। শুধু আইন সংশোধন করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।
অনলাইনে আরজেএসসিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। একই সঙ্গে আরজেএসসির কার্যক্রম পরিচালনায় কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর তৃতীয় সংশোধনের খসড়া পর্যালোচনা করে খাতভিত্তিক সংগঠনগুলোর মূল্যায়ন ও প্রস্তাব দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ী নেতারা আরও ৩০ দিন সময় চান। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খসড়া সংশোধনী পর্যালোচনা করে মতামত দেওয়ার জন্য যুক্তিসঙ্গত সময় দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি. রহমান, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ), বারভিডা সভাপতি আবদুল হক এবং ট্রান্সকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- এআই
- বাণিজ্যমন্ত্রী