সুসময়ে নেতৃত্বহীন ছাত্রদল
এস এম প্রভাত, আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় লড়াই, সংগ্রামসহ জুলাই অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন আড়াইহাজার ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। অথচ এখন সুসময়ে নেতৃত্বহীন সংগঠনটি। বারবার কমিটি দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন নেতারা। সেই আশ্বাসেই কেটে গেছে দুই বছর। এতে নেতাকর্মীরা যেমন সংগঠিতভাবে কাজ করতে পারছেন না, তেমনি নেতৃত্ব প্রত্যাশীরা হতাশ হচ্ছেন।
সবশেষ ২০২১ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের আওতাধীন আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আহ্বায়ক করা হয় জুবায়ের রহমান জিকুকে ও সদস্য সচিব করা হয় মোবারক হোসাইনকে। তাদের ৬০ দিনের মধ্যে অধীনস্থ ইউনিট কমিটি গঠন করে জেলা ছাত্রদলের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তারা তা করতে পারেননি। সেজন্য ২০২৪ সালের ১৭ মার্চ কেন্দ্রীয় ছাত্রদল আড়াইহাজার ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকে নতুন কমিটির আশায় প্রহর গুনছেন নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল আহম্মেদকে সভাপতি ও আফজাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০০১ সালে উপজেলা ছাত্রদলের দ্বিবার্ষিক কমিটি করা হয়। এরপর ২০০৩ সালে জুয়েল আহম্মেদকে সভাপতি ও সফিউদ্দিন সফুকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্যের কমিটি করা হয়। দুই বছরের কমিটি পার করে প্রায় আট বছর।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদলের অনেক ত্যাগী নেতা নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন। বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নতুন কমিটি গঠনের জন্য আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।
উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নবী হোসেন। তিনি আগামীতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য অনেকে নিজেদের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মোবারক হোসাইন বলেন, আড়াইহাজার ছাত্রদল সবসময়ই শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে দলের যে কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে আসছে। জেলা কমিটি না থাকায় উপজেলা নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির তেমন আগ্রহ নেই। তিনি আরও বলেন, কমিটি গঠন থেমে থাকায় পদ প্রত্যাশীদের মাঝে কিছুটা হতাশা থাকলেও যারা ছাত্রদল করেন তারা যার যার অবস্থান থেকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুয়েল আহম্মেদ জানান, ছাত্রদলকে গতিশীল ও শক্তিশালী করতে কমিটি গঠনের কোনো বিকল্প নেই। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আগামী কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন রফিকুল ইসলাম, রাসেল মোল্লা, হাসিবুর রহমান শান্ত, নাহিদ মোল্লা, মনজুরুল হক কাকন, মোহাম্মদ হোসাইন মোহাম্মদ অন্তর, রতন আহমেদ, ইয়াছিন আরাফাতসহ বেশ কয়েকজন। সাধারণ সম্পাদক পদে নবী হোসাইন, শান্ত ভূইয়া, নাদিম মাহমুদ, তুষার মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন নেতা ব্যানার ফেস্টুনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের তুলে ধরছেন।
পদপ্রত্যাশীরা জানান, দীর্ঘদিন কমিটি না থাকার কারণে সংঘবদ্ধভাবে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। তা ছাড়া কমিটি না থাকার কারণে দলের ভেতর জবাবদিহির জায়গাও নষ্ট হচ্ছে। এ সুযোগে কেউ কেউ অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন। তারা যোগ্য, ত্যাগী ও সক্রিয় কর্মীদের মূল্যায়ন করে দ্রুততম সময়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান।
- বিষয় :
- ছাত্রদল