চট্টগ্রামে ধর্ষণের পর কিশোরীকে হত্যা, আসামির যাবজ্জীবন
‘আত্মীয়তার বিশ্বাসকেই অপরাধের হাতিয়ার বানিয়েছে আসামি’
ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:১৯ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:২০
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ১৭ বছরের কিশোরী কলি আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় মো. নজরুল ইসলাম ওরফে মিঠুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডিত নজরুল ইসলাম হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মির্জাপুর নোয়াপাড়া মোল্লা বাড়ি ওরফে মুছা মিয়ার বাড়ির বাসিন্দা। তিনি ভিকটিম কলি আক্তারের নিকটাত্মীয়।
রায়ে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ময়নাতদন্তে কলির গলায় ফাঁসের দাগ এবং গলার ভেতরে জমাট রক্ত পাওয়া গেছে। এতে প্রমাণ হয়, জীবিত অবস্থায় তার গলায় ফাঁস দেওয়া হয়েছিল। ভিকটিমের নিজের ওড়না দিয়ে তাকে ফাঁস দেওয়া হয়।
আদালত বলেন, অপরাধটি অত্যন্ত গুরুতর। ১৭ বছরের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে তারই ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে এবং লাশ বাথরুমের ট্যাংকিতে লুকিয়ে রাখা হয়। আসামি ভিকটিমের আত্মীয় ছিল এবং সেই আত্মীয়তার বিশ্বাসকেই সে অপরাধের হাতিয়ার বানিয়েছে।
তবে আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার কারণ হিসেবে বলেন, ঘটনাটি আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল বলে প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার সময় আসামির বয়স আনুমানিক ২৪ বছর ছিল। গ্রেপ্তারের পরদিনই সে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দোষ স্বীকার করেছিল। তার আগে কোনো সাজা নেই এবং সে সংশোধনের অযোগ্য নয়। তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হলো।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদ উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(২) ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ডের টাকা আদায় হলে একই আইনের ১৬ ধারা অনুযায়ী ভিকটিমের বাবা ছোট্ট মিয়া ওরফে চুট্টু মিয়াকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কলি আক্তার তার খালার বাড়ি থেকে নিজের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। তবে সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা তিন দিন ধরে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।
পরে ১৭ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় হাটহাজারীর দানু মিয়া ব্রিকফিল্ডের পূর্ব পাশে পুকুরপাড়ে একটি পরিত্যক্ত পায়খানার রিংয়ের ট্যাংকির ভেতর থেকে কলির আংশিক পচা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। মামলায় ২২ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন আদালত।