ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেকে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় বিষপানে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা, প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ২

ডেকে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় বিষপানে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা, প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ২
×

প্রতীকী ছবি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:১৪ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৪৩

পঞ্চগড়ে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ফুসলিয়ে ডেকে নিয়ে প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে ওই স্কুলছাত্রী। পুলিশ অভিযুক্ত প্রেমিক সোহেল (২৫) ও তার সহযোগী ইজিবাইকচালক রফিকুল ইসলাম ওরফে বাঘা মন্টুকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বাড়ি পঞ্চগড় উপজেলা সদরের ভিতরগড় এলাকায়। 

গতকাল সোমবার রাতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী। আজ মঙ্গলবার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, স্কুলে যাতায়াতের পথে ওই ছাত্রীকে বিরক্ত করত সোহেল। একপর্যায়ে ফুসলিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে একইভাবে তাকে বাড়ি থেকে রফিকুলের ইজিবাইকে তুলে নেয় সোহেল। পরে তাকে রাজমহল পূর্ববাগান এলাকার আবু সায়েদের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি গোপন রাখার হুমকি দিয়ে রাত ২টায় মডেলহাটগামী একটি ইজিবাইকে তুলে দেয় ওই স্কুলছাত্রীকে। এ সময় একা পেয়ে অজ্ঞাত ইজিবাইকচালক ও ২ যাত্রী তাকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে। এ সময় অটো থেকে লাফিয়ে দৌড় দেয়। স্থানীয় এক ট্রলিচালকের সহযোগিতায় এ যাত্রায় সে রক্ষা পায়। পরে বাড়িতে কল করে বিষয়টি জানালে তার ভাই এসে তাকে বাড়ি নিয়ে যায়।

ঘটনার পর দিন ক্ষোভে বিষপান করে ওই স্কুলছাত্রী। তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে তিন দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে মারা যায় সে। এ ঘটনায় ১৩ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড় সদর থানায় সোহেলসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে স্কুলছাত্রীর বড় ভাই।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, ‘বিষপান করায় ওই স্কুলছাত্রীক হাসপাতালে আনা হয়। পরে আমরা জানতে পারি তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।’

সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে থানায় একটি মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের পাশাপাশি বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

×