সরকারের সাত মাসে সর্বোচ্চ মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে: মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। ফাইল ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৩০
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, সরকারের সাত মাসে দেশে মানুষের অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক মানবাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মদদে এ সময়ে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। বিরোধী দলের ভিন্নমত, পথ, আদর্শ কিংবা রাজনৈতিক মূল্যবোধও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হরণ করা হয়নি।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত কোনো প্রকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আমাদের জানামতে ঘটেনি।’
তিনি বলেন, অতীতে একটি নির্দিষ্ট কার্যালয় বা রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিরোধী মতের মানুষের তালিকা করা হতো এবং নির্দেশ দিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হতো। বর্তমান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোয় স্থানীয় পর্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা প্রশাসনিক ভুলভ্রান্তি ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এই গণতান্ত্রিক ধারাকে স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে কোথাও কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটলে অতীতের মতো তা ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে না। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে দমন-নিপীড়নের সংস্কৃতি ভেঙে প্রান্তিক মানুষের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ঐতিহাসিক এ আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা জনগোষ্ঠীর ছিল না। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পোশাক শ্রমিক, রিকশাচালক, প্রবাসী, নারী, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রেখেছেন। ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে সবাই এক বিন্দুতে মিলিত হয়ে জাতীয় ঐক্য তৈরি করেছিলেন।
বিভিন্ন আইন প্রণয়নে অংশীজনদের মতামত নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একশর বেশি অধ্যাদেশ বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। এত দ্রুত এত বিপুলসংখ্যক আইন সংসদীয় প্রক্রিয়ায় পাস করার নজির অতীতে বিরল। নতুন যেসব আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, সেগুলোতেও অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়েছে। আইনের খসড়া আগেই উন্মুক্ত করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আইন প্রণয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসন শেষে নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করেছে। আইন প্রণয়নকারী সংসদ সদস্যরা সর্বস্তরের মানুষের মতামত ধারণের চেষ্টা করছেন। প্রথমবারেই শতভাগ নিখুঁত পরিবর্তন সম্ভব না হলেও বিভিন্ন পর্যায়ে অংশীজনদের মতামত নিয়ে বাস্তবসম্মত ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হচ্ছে।
মাহদী আমিন বলেন, গণতন্ত্র কেবল পাঁচ বছর পর এক দিনের ভোট দেওয়ার নাম নয়। সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী দল জনগণের প্রত্যাশা ও বিশ্বাস ধারণ করে যে ভোট পায়, পরবর্তী পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনায় তার কতটুকু প্রতিফলন ঘটছে, সেটিই গণতন্ত্রের প্রকৃত মাপকাঠি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে রাষ্ট্রক্ষমতার একমাত্র উৎস ও প্রকৃত মালিক এ দেশের জনগণ। তাই জনগণের প্রতি শতভাগ দায়বদ্ধতা ও পূর্ণ স্বচ্ছতা নিয়ে বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনায় অঙ্গীকারবদ্ধ।
দেশের সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, বেসরকারি খাত এবং বিশেষ করে তরুণ ও নারী সমাজকে মূল চালিকাশক্তি করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণদের সম্ভাবনা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের পরিচালনায় আলোচনায় আরও অংশ নেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী এবং চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিক তাসনিম জারা। এ ছাড়া শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরুণরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- মাহদী আমিন
- আইন
- বাকস্বাধীনতা
- মানবাধিকার