রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ছাত্রদলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ
ফাইল ছবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:০৪
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলে সিট চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে রাতভর নির্যাতন, ফোন তল্লাশি ও জোর করে স্বীকারোক্তি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হল শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী আসিফ মিয়া অনিক গণিত বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে ছাত্রদলের দাবি, ওই শিক্ষার্থী তাদের দলে ভিড়ে ‘স্পাইগিরি’ বা নজরদারি করতে এসেছিলেন।
ভুক্তভোগী আসিফ মিয়ার অভিযোগ, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি হলের ১১৯ নম্বর কক্ষে এক ছাত্রের সঙ্গে সিট শেয়ার করে থাকতেন। ওই সিটে নতুন বরাদ্দ হওয়ায় এবং প্রাধ্যক্ষ দুই মাস সময় চাওয়ায় তিনি গণরুমের সহায়তায় হল ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান ফুয়াদের কক্ষে যান। সেখানে ফুয়াদ তাঁকে ছাত্রদলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করতে ফোনটি হাতে নেন। এর পরই শুরু হয় ব্যক্তিগত মেসেজ তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ। পরে তাঁকে শিবিরের ‘স্পাই’ আখ্যা দিয়ে গেস্টরুমে নিয়ে নির্যাতন ও মারধর করা হয় এবং জোর করে বয়ান রেকর্ড করা হয়।
হল ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান ফুয়াদ বলেন, আসিফ নিজেকে এক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতার পরিচিত দাবি করে তাদের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা জানান এবং একটি সিটের সুপারিশ চান। তাঁকে গ্রুপে যুক্ত করতে গিয়ে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে হল শিবির সভাপতি রাসানের সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়টি নজরে আসে। সেখানে শিবির সভাপতি তাঁকে আমার কাছে পাঠাতে এবং পুরো কথোপকথন রেকর্ড রাখার নির্দেশনা দেন। এটি আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং পরিকল্পিত নজরদারি। পরে প্রক্টর ও প্রাধ্যক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়।
হল শিবির সভাপতি রাসান জানান, আসিফ তাদের কর্মী নন। তবে প্রাধ্যক্ষের দ্বিমুখী আচরণের কারণে তথ্য প্রমাণের জন্য তাঁকে রেকর্ড রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বলপ্রয়োগ উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রশিবির। দাবিগুলো হলো– অভিযুক্ত ছাত্রদল সভাপতিকে হল থেকে বহিষ্কার ও ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া; ঘটনায় জড়িত অন্য ছাত্রদল নেতাদের শৃঙ্খলা কমিটির মাধ্যমে শাস্তি প্রদান; ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা এবং সংশ্লিষ্ট হল প্রাধ্যক্ষকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া।
শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আল আমিন সরকার জানান, রাত ৩টার দিকে খবর পেয়ে তিনি হলে যান এবং অনিককে নিজের কক্ষে নিরাপদে রাখেন। অনিক তাঁর কাছে কোনো রাজনৈতিক সংশ্রব বা অপকর্মে যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। মারধর ও অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দ্রুতই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
- ছাত্রদল
- নির্যাতন