‘হাসপাতালে আগুন না লাগলে আমার স্বামী বেঁচে যেত’, নিহতের স্ত্রীর দাবি
নিহতের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: সমকাল
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:২৯ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৩০
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন লাগার পর আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে মারা যান ফুলবাড়িয়ার সিএনজিচালক রমজান আলী। তার স্ত্রী খাদিজা আক্তারের দাবি, আগুনের ঘটনা না ঘটলে এবং আতঙ্ক তৈরি না হলে তার স্বামী হয়তো বেঁচে যেতেন।
মঙ্গলবার সকালে ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিদ্যানন্দ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয় রমজান আলীর মরদেহ। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় করেন। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে বুকে ব্যথা নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন রমজান আলী। সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন রমজান।
রমজানের স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, ‘আগুন লাগার পর তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। এরপর সেখানেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে যান। কয়েকজনের সহযোগিতায় তাকে ওপরে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
খাদিজার ভাষ্য, আগুনের ঘটনা না ঘটলে তার স্বামীকে নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
‘হাসপাতালে আগুন না লাগলে, আতঙ্কিত না হলে আমার স্বামী হয়তো বেঁচে যেতেন’, বলেন তিনি।
হাসপাতালের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন লাগার ঘটনায় সোমবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিভাগীয় কমিশনার জানিয়েছিলেন, কেউ পদদলিত হয়ে মারা যাননি। যে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
তবে নিহত রমজান আলীর পরিবারের সদস্যরা এই বক্তব্য মানতে নারাজ। তাদের দাবি, আগুনের পর আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ির কারণেই রমজান অসুস্থ হয়ে পড়ে মারা যান।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
রমজান আলীর পাশাপাশি একই ঘটনায় ফুলবাড়িয়ার পল্লিচিকিৎসক শাহজাহান মোল্লা ও তারাকান্দার কুলসুম বেগমও মারা গেছেন। তাদের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়েছে এবং পরে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিহত শাহজাহান মোল্লার স্ত্রী হারিছা বেগম বলেন, সন্ধ্যায় হাসপাতালে আগুন লাগার পর তিনি ও তার বড় বোন জাহানারা কাঁধে করে শাহজাহানকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তারা সিঁড়িতে পড়ে যান। এরপর মানুষ তাদের ওপর দিয়েই চলে যায়।
হারিছা বলেন, তিনিও আঘাত পেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরলে জানতে পারেন, তার স্বামী মারা গেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, কেউ পদদলিত হয়ে মারা যায়নি। তারা তো ঘটনাটি দেখেনি। আমি সেখানে ছিলাম।’