ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুষ্টিয়ায় পীরের মরদেহ তুলে দরবারে দাফনের ঘটনায় ভক্ত গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ায় পীরের মরদেহ তুলে দরবারে দাফনের ঘটনায় ভক্ত গ্রেপ্তার
×

লালা প্রামাণিক

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৪৪

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীমের মরদেহ কবর থেকে তুলে তাঁর দরবার শরিফ প্রাঙ্গণে পুনরায় দাফনের ঘটনায় লালা প্রামাণিক নামে এক ভক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। লালা ওই এলাকার প্রয়াত মেছের প্রামাণিকের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার একটি স্থানীয় কবরস্থানে শামীমকে দাফন করা হয়েছিল। গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতের কোনো এক সময় তাঁর কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ তুলে নিয়ে ফিলিপনগরে ‘শামীম বাবার দরবার’ প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়। পরদিন সকালে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। তারা স্থানীয় কবরস্থানে গিয়ে কবর খোঁড়ার আলামত পান এবং দরবার প্রাঙ্গণে নতুন একটি কবর দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরবার প্রাঙ্গণের নতুন কবর থেকে পলিথিনে মোড়ানো কঙ্কালসদৃশ দেহাবশেষ উদ্ধার করেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দেহাবশেষ আগের কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় শামীমের ভাই ফজলুর রহমান দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, ঘটনাটির তদন্তে নেমে শামীমের ভক্ত লালা প্রামাণিকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। সোমবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কিনা, নিশ্চিত হতে লালাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গত ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামীমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই দিন তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ১২ এপ্রিল স্থানীয় কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। নিহত আব্দুর রহমান শামীম নিজেকে ‘কালান্দার বাবা’ হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং সুরেশ্বরী দরবারের অনুসারী ছিলেন। শামীম হত্যার ঘটনায় তাঁর ভাই ফজলুর রহমান কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় এজাহারনামীয় চার আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

আরও পড়ুন

×