ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডাকসুর প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি

ডাকসুর প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি
×

ডাকসুর প্রবেশপথ এবং সংগ্রহশালার মেঝেতে জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি লাগিয়ে সেগুলো পদদলিত করেন একদল শিক্ষার্থী। ছবি: সমকাল

ঢাবি সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৫৩ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:১১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে জিন্নাহ ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছবি পায়ের নিচে রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের একদল শিক্ষার্থী ডাকসু ভবনের প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার ভেতরে এ কর্মসূচি পালন করেন।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বলেন, ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা এর আগে জিন্নাহর ছবি সংগ্রহশালায় লাগানোর বিষয়ে বলেছিলেন, তার ইচ্ছা হয়েছে বলেই তিনি ছবি লাগিয়েছেন। শিক্ষার্থীদেরও ইচ্ছা হয়েছে এবং সেই কারণেই তারা জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি পায়ের নিচে রেখেছেন।

ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ সমকালকে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কোনো উদযাপনের চরিত্র নন; ইতিহাসে তার ভূমিকা আমাদের ভাষা ও জাতীয়তাবাদী সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে বিরোধপূর্ণ। আমরা ভুলে যাইনি, ১৯৪৮ সালে রেসকোর্স ময়দানে জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন, ‘উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। সেই জিন্নাহ’র ছবি যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডাকসুর সংগ্রহশালার দেয়ালে লাগিয়েছে, সেই জিন্নাহকে আমরা বাংলাদেশপন্থীরা তীব্র ঘৃর্ণার সঙ্গে মাটিতে লাগিয়ে দিলাম। 

একই সেশনের আরেক শিক্ষার্থী আস শামস বলেন, ভাষা আন্দোলন ,৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের সব গৌরবময় অধ্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে ,ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ,আব্দুল মালেকের ছবি কখনোই কাম্য নয়। বর্তমান শিবির প্যানেলের নির্বাচিত ডাকসু বরাবরই দেশবিরোধী শক্তিদের সামনে নিয়ে আসার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে গতকাল সোমবারের ঘটনার পর ডাকসু সংগ্রহশালা পরিদর্শন করেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক নামে শিক্ষকদের একটি সংগঠনের সদস্যরা। পরিদর্শন শেষে এক ব্রিফিংয়ে সংগঠনটির সদস্যরা ডাকসুর ভেতরে ‘মব’ করে ভাঙচুরের অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

ব্রিফিংয়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষক যুবায়ের মুহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবারই আছে। কেউ যদি অন্যায় করে তার বিচার করবে প্রশাসন। কিন্তু মব করে ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাঙচুর করাটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সংগ্রহশালায় জিন্নাহর তিন ছবি
সংস্কারের পর গত রোববার ডাকসু সংগ্রহশালা আবার চালু করা হয়। সেখানে নতুন করে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি রাখা হয়। এর একটি ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জিন্নাহর দেওয়া বক্তব্যের সময়ের ছবি। ওই অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।’

এ ছাড়া ১৯৪০ সালের মার্চে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি এবং ডন পত্রিকায় প্রকাশিত ওই সম্মেলনসংক্রান্ত প্রতিবেদনের পেপার কাটিংও সংগ্রহশালায় রাখা হয়। পাশাপাশি ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবিও সেখানে প্রদর্শন করা হয়েছিল।

তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি সংগ্রহশালায় রাখা হয়নি। এর আগে সেখানে তার এমন ছবি ছিল।

এর প্রতিবাদে গতকাল সোমবার ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। পরে সেখানে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমের সামনে জুতাপেটা করার একটি ছবি টানিয়ে দিয়েছিলেন ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন

×