মমেকে আগুন
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারাই তদন্ত কমিটিতে
নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে সংশয়, ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ
মমেক হাসপাতালে আগুন। ছবি-সমকাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৪৭
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফট কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অনিয়ম, অবহেলা ও লিফটের অনিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভিযোগ রয়েছে গণপূর্ত বিভাগের বিরুদ্ধে। অথচ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে একই বিভাগের দুজন প্রকৌশলীকে রাখা হয়েছে। এ কারণে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের নতুন ভবনের ১১ নম্বর লিফটের কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ও আতঙ্কিত হয়ে পদদলিত হওয়ার ঘটনায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু এবং ২০ জন আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর আজ মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত দাপ্তরিক চিঠিতে দেখা যায়, কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মমেকের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও ইউনিট প্রধান অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ময়মনসিংহের গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস এবং গণপূর্তের কেন্দুয়া সাব-ডিভিশনের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম) মাজেদুর রহমান। অন্য সদস্যরা হলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী এবং সদস্য সচিব হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈনউদ্দিন খান। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক সমকালে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মমেক হাসপাতালের লিফট রক্ষণাবেক্ষণে গণপূর্ত অধিদপ্তর ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাঈমা এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতি, ভুয়া ভাউচার, অকেজো এআরডি সিস্টেম এবং অসাধু প্রকৌশলীদের যোগসাজশের অভিযোগ উঠে আসে। প্রতিবেদনে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিন্ডিকেটের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। মানহীন যন্ত্রাংশ ব্যবহার ও নিয়মিত তদারকি না করার কারণে লিফটগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের তীর যাদের দিকে, তাদেরই তদন্ত কমিটিতে রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
স্থানীয় নাগরিক নেতা আবুল কালাম আল আজাদ বলেন, ‘যার ব্যর্থতা ও দুর্নীতির কারণে লিফটের যন্ত্রাংশ অকেজো ছিল এবং শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে এতগুলো প্রাণ গেল, সেই প্রকৌশলীদেরই তদন্ত কমিটিতে রাখা মানে রক্ষককে ভক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া। এই কমিটি কখনোই নিরপেক্ষ প্রতিবেদন দেবে না। বরং নিজেদের অপরাধ ঢাকতেই ব্যস্ত থাকবে। আর প্রকৃত কারণ জনগণ জানতে পারবে না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস সমকালকে বলেন, ‘কমিটি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এখানে আমাদের একার কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। কমিটির মূল কাজ ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করা।’
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, গণপূর্তের গাফিলতি ঢাকতেই তড়িঘড়ি করে তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকতে পারে।