ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৯৯৯-এ স্ত্রীর ফোন, ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে নারীসহ সাবেক ওসিকে নেওয়া হলো থানায়

৯৯৯-এ স্ত্রীর ফোন, ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে নারীসহ সাবেক ওসিকে নেওয়া হলো থানায়
×

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৩৪

রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে তাদের বের করে আনেন। পরে দুজনকেই চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।

ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম। তিনি বর্তমানে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত আছেন। ২০২৪ সালে তিনি রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। সে সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খামে করে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

শুক্রবার সকালে নগরের নাদের হাজীর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ৯৯৯-এ ফোন করেছিলেন মাহবুব আলমের স্ত্রী আন্নি আক্তার। তার দাবি, মাহবুব আলম ওই এলাকার একটি ফ্ল্যাটে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছেন।

আন্নি আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব আলম নাদের হাজীর মোড়ের একটি ফ্ল্যাটে গেছেন। সেখানে একজন নারীও রয়েছেন। খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে তিনি ওই ফ্ল্যাটে যান। দীর্ঘ সময় দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কেউ দরজা খুলছিলেন না। পরে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করে। কিন্তু ভেতর থেকে দরজা খোলা হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে মাহবুব আলম ও ওই নারীকে বের করে আনা হয়। পরে তাদের চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।

থানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মাহবুব আলম। সঙ্গে থাকা নারীকে তিনি নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেন। অন্যদিকে আন্নি আক্তারকে নিজের ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করলেও মাহবুব আলম বলেন, তাকে চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন। এ–সংক্রান্ত একটি কাগজও তিনি পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানান। তবে ওই নারীকে বিয়ের কাবিননামা দেখাতে পারেননি।

আন্নি আক্তার দাবি করেন, বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনের সময় মাহবুব আলম একাধিক বিয়ে করেছেন এবং বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলম তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি স্বামীর বিষয়ে এসব তথ্য জানতে পারেন বলে জানান।

আন্নি আক্তার বলেন, রাজশাহী নগরের পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুব আলমের একটি নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগেও ওই ফ্ল্যাটে তিনি মাহবুব আলমকে ওই নারীর সঙ্গে দুই দিন দেখেছেন। তখন মান-সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি।

চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসবেন। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ বলেন, তিনি ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই। তিনি কাউকে জানিয়েও রাজশাহী যাননি। বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগ করাও একটি অপরাধ। মাহবুব আলম ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।

এর আগে মাহবুব আলম নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। পরে তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন

×