প্রসূতির লাশ নিয়ে হাসপাতাল ঘেরাও
প্রসূতির লাশ নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আল বারাকা হাসপাতাল ঘেরাও করে এলাকাবাসী সমকাল
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ‘ভুল’ চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন হাসপাতালে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হাসপাতাল বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী পপি আক্তার (২৫) ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাকুই গ্রামের মোহন মিয়ার স্ত্রী। স্বজনদের অভিযোগ, গত ৪ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের ‘আল বারাকাহ হসপিটালে’ পপি আক্তারের অস্ত্রোপচার (সিজার) করানো হয়। পরে ৭ সেপ্টেম্বর ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ছাড়পত্র পাওয়ার পর থেকে পপির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি আবারও আল বারাকাহ হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের স্থানের সেলাই কেটে দেন এবং কোনো সমস্যা নেই বলে তাঁকে বাড়ি যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে পপির অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বজনেরা জানান, সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে পুনরায় ওই দিনই অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে শয্যা খালি না থাকায় তাঁকে কুমিল্লা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার ভোরে পপির মৃত্যু হয়।
এদিকে ওই হাসপাতাল থেকে পপির মরদেহ নিয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী শুক্রবার আল বারাকাহ হাসপাতালে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পপির স্বামী মোহন মিয়া বলেন, আল বারাকাহ হাসপাতালে ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর রক্তনালি কেটে ফেলা হয়, যার ফলে ব্যাপক রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ভুল চিকিৎসায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও মনিরুল ইসলামের ভাষ্য, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সাহেবাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন চৌধুরী জানান, মা হারা দুটি অবুঝ শিশুর ভবিষ্যৎ এবং সার্বিক দিক বিবেচনা করে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।
আল বারাকাহ হাসপাতালের মালিক আবদুল্লাহ আল কাফিকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি ফারুক হোসেন বলেন, হাসপাতালে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- হাসপাতাল