ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর দীর্ঘ তালিকা, অন্তর্কোন্দলের শঙ্কা

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর দীর্ঘ তালিকা, অন্তর্কোন্দলের শঙ্কা
×

 মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়েছে। দলীয় সমর্থন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত দুই থেকে পাঁচজন করে অর্ধশতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী দিনরাত মাঠ পর্যায়ে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দলীয় মনোনয়ন বা সমর্থন না পেলে অনেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এতে স্থানীয় বিএনপিতে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং বা কোন্দলের আগাম আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ইউপি নির্বাচনে সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নে আশরাফ উদ্দিন আহমদ ছাড়া সরাসরি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কেউ চেয়ারম্যান পদে জয়ী হতে পারেননি। তবে খলিলপুর ইউনিয়নে জয়ী আবু মিয়া চৌধুরী একসময় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন এবং তিনি বিএনপি ঘরানার মানুষ হিসেবে পরিচিত। অপর ১০ ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যানরা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মামলা ও নানা কারণে আত্মগোপনে থাকায় পুরো নির্বাচনী মাঠ ও সামাজিক  মাধ্যম এখন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের দখলে রয়েছে। পাশাপাশি, জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থীরাও বেশির ভাগ ইউনিয়নে গোপনে ও প্রকাশ্যে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
খলিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ জুয়েল আহমদ এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাবেক ছাত্রদল নেতা আবু সালেহ নির্বাচনের ব্যাপারে পূর্বাভাস দিয়েছেন।

সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থিতার কথা জানিয়েছেন বিএনপির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হক সেফুল, জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল হেকিম, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বিএনপি নেতা মর্তুজা মিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাবেক ছাত্রনেতা শাহ মশাহিদ মিয়া।
আখাইলকুঁড়া ইউনিয়ন থেকে জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদ, সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও গত নির্বাচনে স্বল্প ভোটে পরাজিত প্রার্থী ফখরুল ইসলাম এবং যুবদলের সাবেক নেতা রুমেল আহমদ রয়েছেন আলোচনায়।

এদিকে কামালপুর ইউনিয়নেও একাধিক দলীয় প্রার্থীর আভাস পাওয়া যাচ্ছে বিএনপির মূল দল ও সহযোগী সংগঠনগুলো থেকে। তারা হলেন– একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বেলাল মিয়া।
এ ছাড়া কনকপুর ইউনিয়ন জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফুয়াদ জামান, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ আহমদ মাহফুজুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল মাহমুদ এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা শাহীন আহমেদ। আমতৈল ইউনিয়নে সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান রানা খান শাহীন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এম এ মোহিত এবং সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমির মাহমুদ। কাগাবলায় সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, আইনজীবী আব্দুস সালাম এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ডি এম মুক্তাদীর রাজু। নাজিরাবাদ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আশরাফ উদ্দিন আহমদ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হক রাজা এবং জুয়েল আহমদ।

এদিকে গিয়াসনগর ইউনিয়নে  বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা সৈয়দ ময়নুল হক, বিএনপি নেতা রোমান আহমদ রাণু ও জিলা মিয়া মেম্বার। চাঁদনীঘাট ইউনিয়নে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মতিন বক্স, সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সাদিকুর রহমান, জেলা যুবদলের সদস্য নাজমুল মামুন এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মামনুন চৌধুরী।
মোস্তফাপুরে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের গ্রামের বাড়ি এই ইউনিয়নে সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য তোফায়েল আহমদ তুয়েল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইমরান হোসেন এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা সৈয়দ তানভীর আহমদ এবং একাটুনা ইউনিয়নে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সহসম্পাদক মোহিতুর রহমান হেলাল এবং ইউপি বিএনপির সভাপতি ছালিকুর রহমান নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতার ব্যাপারে সরব রয়েছেন।

একাটুনা ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থী মোহিতুর রহমান হেলাল বলেন, আশির দশকের শেষ দিক থেকে ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন সহ্য করেছেন। ২০১৬ সালের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করে সম্মানজনক ভোট পেয়েছেন। দল ও ইউনিয়নবাসী তাঁর দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও জনসম্পৃক্ততা মূল্যায়ন করবে বলে আমি আশাবাদী।
নাজিরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন আহমদ বলেন, জেল-জুলুমের ভয়ে ভীত না হয়ে সব সময় বিএনপির রাজনীতিতে সরব ছিলেন। জনগণের ভালোবাসায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি, আশা করি এবারও ভোটারদের সমর্থন ও দলীয় মনোনয়ন আমার পক্ষেই থাকবে।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা তৃণমূলে হাল ধরেছেন এবং যাদের জনসমর্থন রয়েছে, তাদেরই মূল্যায়ন করা হবে। তবে কোনো নেতার জেল-জুলুমের রেকর্ড থাকলে যদি জনপ্রিয়তার কিছু ঘাটতিও থাকলে তাঁকে দল বিবেচনা করবে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আইনজীবী ফয়জুল করিম ময়ূন জানান, তপশিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের এই অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপ সামলানো কিছুটা কঠিন হবে। তবে তিনি আশাবাদী, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ যাবে না। যদি কেউ এর ব্যত্যয় ঘটায়, হাইকমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

আরও পড়ুন

×