পাঁচ বছরেও চালু হয়নি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট
অচল অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে মাধবপুর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। বুধবার তোলা সমকাল
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও আয়রনমুক্ত পানি সরবরাহের লক্ষ্যে প্রায় ৫ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দীর্ঘ পাঁচ বছরেও চালু হয়নি।
২০২২ সালের ২৮ জুন প্লান্টটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হলেও আজ পর্যন্ত সেখান থেকে এক ফোঁটাও পানি পান করতে পারেননি পৌরবাসী। এর মধ্যেই প্লান্টের তিনটি গভীর নলকূপের সবকটি নষ্ট হয়ে গেছে এবং পানি সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইনও স্থাপন করা হয়নি। ফলে কোটি টাকার সরকারি এই স্থাপনাটি পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর পৌরবাসীকে আয়রনমুক্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়। শ্যামলীপাড়ার উত্তরে স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে পৌরসভার জায়গায় প্লান্টটি নির্মাণ করা হয়। ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে পরিশোধনের পর ৪৫০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার ওভারহেড ট্যাঙ্কে সংরক্ষণ এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে পৌরবাসীর মধ্যে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশি সময় নির্মাণকাজ চলার পর ২০২২ সালের ২৮
জুন প্লান্টটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্লান্টটির প্রতি ঘণ্টায় ২ লাখ লিটার পানি পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু হস্তান্তরের পর থেকে এটি আর চালু করা হয়নি। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় প্লান্টের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পৌরবাসী শংকর দেবনাথ বলেন, প্লান্টটি হস্তান্তরের পর চালুর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে আছে। তিনটি গভীর নলকূপ নষ্ট হয়ে গেছে। প্লান্টটি চালু করা গেলে আয়রনযুক্ত পানির সমস্যায় থাকা পৌর এলাকার মানুষ নিরাপদ পানি পেতেন। কিন্তু পাইপলাইন না থাকায় পানি সরবরাহের ব্যবস্থাই গড়ে ওঠেনি।
পৌর নাগরিক সাদেক বলেন, সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্লান্টটি নির্মাণ করেছে। কিন্তু যাদের ব্যর্থতায় এটি চালু করা সম্ভব হয়নি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এরই মধ্যে অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। আর কিছুদিন এভাবে পড়ে থাকলে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হয়ে যাবে।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ বারবার প্লান্টটি চালুর চেষ্টা করছে। তবে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার কারণে সময়মতো এটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
মাধবপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, এখানে যোগদান করেছেন বেশিদিন হয়নি। যোগদানের কিছুদিন পরই ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ও ওভারহেড ট্যাঙ্ক পরিদর্শন করেছেন। তখন জানতে পেরেছেন, প্লান্টটি কখনও চালু হয়নি। এটি কীভাবে দ্রুত চালু করা যায়, সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রায় ২৫ হাজার পৌরবাসীর জন্য নির্মিত প্লান্টটি দ্রুত সচল করে নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের মতে, সরকারি অর্থে নির্মিত এই অবকাঠামো ফেলে রাখায় এর উপকার ভোগ করতে পারছে না পৌরবাসী। ফেলে না রেখে নলকূপ মেরামত, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংস্কার এবং পানি সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপন করে অবিলম্বে জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হোক।
- বিষয় :
- পানি