শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ৮৯ লাখ টাকা, স্বর্ণ ও ১৫ দেশের মুদ্রা
চার দফায় জমা পড়ল ২ কোটি ২৯ লাখ
হযরত শাহজালাল (রহ,) এর মাজারের দানবাক্স ও ডেগের টাকা গণনা করা হচ্ছে। (ছবি- ইউসুফ আলী)
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০১:০৭
সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স চতুর্থবারের মতো খোলা হয়েছে। এবার নগদ পাওয়া গেছে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা। এর সঙ্গে মিলেছে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ এবং ১৫ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা।
এ নিয়ে চার দফায় মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪২ টাকা পাওয়া গেল। শনিবার সকাল ৯টায় সিলগালা থাকা ডেগ ও দানবাক্সগুলো খোলা হয়। জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ও মাজার কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে এই গণনা করা হয়। গণনা দুপুরের দিকে শেষ হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রাপ্ত অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রীর বিস্তারিত তুলে ধরেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, প্রাপ্ত অর্থ ও অলংকারের সুনির্দিষ্ট হিসাব সংরক্ষণ করে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজারের তহবিলে জমা রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের ৫ পাউন্ড, ভারতের ৩ হাজার ৯৯৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাত, সৌদি আরবের ৯৯ রিয়াল ২৫ পয়সা, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৮ ডলার ২ সেন্ট, ওমানের ৯০৩ বায়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দিরহাম ২৫ সেন, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ রিয়াল ৫০ পয়সা, ইউরোপের ৩০ ইউরো ১০ সেন্ট, বাহরাইনের ২৫ পয়সা, পাপুয়া নিউ গিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপি।
এর আগে সর্বশেষ ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স ও ডেগ খুলে পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। সেবার বিভিন্ন দেশের মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণও মিলেছিল। ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় মিলেছিল ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা, সঙ্গে ছিল বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণ ও রুপা সামগ্রী। ২২ জুন প্রথম দফায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। ওই দফায় জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা যুক্ত হওয়ায় অঙ্কটি দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকায়।
আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত সিলেটের এই মাজারে প্রতিদিন সারা দেশ থেকে অগণিত ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন। মানত ও শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে তারা দানবাক্স ও ঐতিহাসিক ডেগে নগদ টাকা, স্বর্ণম রুপার অলংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা দান করেন। আর্থিক স্বচ্ছতা রক্ষায় এখন নিয়মিত বিরতিতে জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে দানবাক্স খুলে বিন্তারিত হিসাব প্রকাশ করা হচ্ছে।
এদিকে এক মাস পর পর দান বাক্স খোলা হলেও টাকা জমা হচ্ছে প্রশাসনের অ্যাকাউন্টে। এ অবস্থায় মাজারের কর্মচারীদের বেতন ভাতা দিতে মাজার কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাজারের মতোয়াল্লি সরেকউম ফতেহ আমান উল্লাহ। তাঁর ব্যক্তিগত তরফ থেকে কর্মচারীদের বেতন ভাতা কিছুটা পরিশোধ করছেন বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এটি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- শাহজালালের মাজার
- দানবক্স
- সিলেট