এক বছরের মধ্যে দৃশ্যমান হবে সড়কের নতুন অবয়ব
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১১
| প্রিন্ট সংস্করণ
আগামী ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা-সিলেট ছয় লেন মহাসড়কের নির্মাণকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে। তার আগে আগামী এক বছরের মধ্যে সড়কটির নতুন অবয়ব দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
গতকাল শনিবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমা চণ্ডিপুলে একটি কনভেনশন হলে সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে কেবল পরিকল্পনা হলেও বাস্তবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অগ্রগতি ছিল মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ। বর্তমান সরকার এটি দ্রুত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজার পর্যন্ত পুরানো সড়কটি নতুন চার লেনের হাইওয়েতে রূপান্তর করা হবে।
রেল যোগাযোগের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঢাকা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ডুয়েলগেজ লাইন রয়েছে। আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের জন্য মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। এটি সম্পন্ন হলে সকালে সিলেট থেকে ট্রেনে চেপে ঢাকায় দাপ্তরিক কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় ফেরা সম্ভব হবে। এ ছাড়া সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের বিদ্যমান গ্যাপ দূর করে একই মানের উন্নত রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে সিলেটে উৎপাদিত পণ্য কার্গো ট্রেনের মাধ্যমে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো যাবে।
ব্যবসা সহজীকরণ (ইজ অব ডুইং বিজনেস) নিয়ে মন্ত্রী বলেন, নতুন কোম্পানি গঠন, ট্রেড লাইসেন্স, ক্লিয়ারেন্স, আইআরসি ও মেশিনপত্র আমদানির এলসি খোলার প্রক্রিয়া ৩৫৫ দিনের বদলে মাত্র ১৪ কর্মদিবসে নামিয়ে আনা হচ্ছে।
এ ছাড়া সিলেটের সিএমএসএমই শিল্পকে বেগবান করতে দক্ষিণ সুরমায় ১৮৮ একর জমির ওপর একটি নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, চলতি বছর যার উন্নয়নকাজ শুরু হবে।
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে মন্ত্রী জানান, সিলেটে মাদক ও অনলাইন জুয়ার কোনো স্থান হবে না। সিলেট শহরকে নিরাপদ রাখতে সিটি করপোরেশন ও মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) যৌথ ব্যবস্থাপনায় পুরো শহরকে ড্রোন, ফেস রিকগনাইজেশন ও ইনফ্রারেড প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। দুর্নীতি রোধে সরকারি সেবায় ফেস রিকগনাইজেশন ও ফিঙ্গারপ্রিন্টভিত্তিক অনলাইন ভেরিফিকেশন চালুর পাশাপাশি সিলেটের তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের একটি এআই ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলারও ঘোষণা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য এমরান আহমেদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- সড়ক