ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুয়েট আন্দোলন

নবম দিনে কালো কাপড়ে চোখ বেঁধে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ মিছিল

নবম দিনে কালো কাপড়ে চোখ বেঁধে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ মিছিল
×

ছবি: সমকাল

চুয়েট সংবাদদাতা

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৪৬ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৪৮

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান উপাচার্য-সংক্রান্ত সংকটের প্রতিবাদে নবম দিনের মতো আন্দোলন চলছে। বুধবার বেলা আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে চোখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে এ প্রতিবাদ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মিনার এলাকায় এসে শেষ হয়। 

মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অচলাবস্থার অবসান এবং উপাচার্য-সংক্রান্ত সংকটের সমাধানের দাবি জানান।

মিছিলে অংশ নেওয়া পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইজাজ মাহমুদ খান বলেন, ‘আমরা প্রায় নয় দিন ধরে চুয়েটে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে দেখছি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না কিংবা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এর প্রতিবাদে আজ দুপুরে চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রশাসনের এই নীরবতার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ 

এদিকে আজও অব্যাহত ছিল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে গত ২১ সেপ্টেম্বর সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর। মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালনের পর তাকে অপসারণ করা হয়। অপসারণের কারণ স্পষ্ট না হওয়া এবং নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।

এর পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন। একই সঙ্গে তারা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, মানববন্ধন, মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। ২৩ সেপ্টেম্বর শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর সর্বাত্মক শাটডাউনের পাশাপাশি মানববন্ধন করেন তারা।

পরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতীকী কর্মসূচিও পালন করেন। ২৫ সেপ্টেম্বর রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদী গ্রাফিতি আঁকার পাশাপাশি ‘লাল কার্ড’ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। ওই মিছিলে ‘অনলাইন ভিসি মানি না’ এবং ‘রেডকার্ড টু অনলাইন ভিসি’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

২৭ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক সায়েমের ৫৬ দিন দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সামনে রেখে শিক্ষার্থীরা ‘৫৬?’ প্রশ্ন-মিছিলের আয়োজন করেন। পরে তারা সংবাদ সম্মেলন করে চলমান সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। এ সময় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও অধ্যাপক সায়েমের পক্ষে বিবৃতি দেন।

শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও কর্মবিরতি পালন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনও কর্মসূচি পালন করে আসছে। ফলে কয়েক দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, চলমান সংকটের দ্রুত সমাধান করে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন

×