ককটেল বিস্ফোরণে মামলা, এখনও আতঙ্ক কাটেনি
ফাইল ছবি-সংগৃহীত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৩৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল নারায়ণপুর ইউনিয়নের জহুরপুর নরোশিয়া গ্রামের মুসা মাওলানাপাড়ায় এক বাড়িতে ভয়াবহ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। বিস্ফোরক উপাদান অবৈধভাবে মজুত রাখার দায়ে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সদর থানায় মামলাটি করা হয়।
মামলায় সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিক পলাতক ইউনূস আলীর ছেলে ইয়াহিয়া হোসেন ওরফে এহু হোসেন এবং তাঁর স্ত্রীকে প্রধান এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে সমকাল প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এস এম ওয়াসিম ফিরোজ। তিনি জানান, মামলার পর পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ একাধিক অভিযান শুরু করেছে। এলাকাটি দুর্গম চরাঞ্চল হলেও সেখানে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারি রয়েছে। বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও পুলিশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
এদিকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মুসা মাওলানাপাড়ায় এখনও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মাটির নিচে পুঁতে রাখা ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হওয়ায় বাড়ির আঙিনা বা অন্যত্র আরও ককটেল বা বিস্ফোরক গচ্ছিত রাখা আছে কিনা– তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসী। ঘটনার পর থেকে মূল অপরাধী ও তাঁর পরিবারের সব সদস্য গা ঢাকা দেওয়ায় বসতবাড়ির অন্যান্য কক্ষগুলোতে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। বর্তমানে পুলিশ বাড়িটি ঘিরে রেখেছে।
গত সোমবার রাতে বিকট শব্দে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটলে উপজেলার জহুরপুর নরোশিয়া গ্রামের মুসা মাওলানাপাড়ার ইয়াহিয়ার বাড়ির একটি ঘরের একাংশ পুরোপুরি ধসে পড়ে এবং টিনের চাল উড়ে যায়। হঠাৎ এমন বিকট শব্দে চরাঞ্চলসহ আশপাশের বিশাল এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলছেন, পুলিশ এসে ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে সত্য, কিন্তু আমাদের ভয় কাটছে না। আমরা চাই পুরো এলাকা ও ওই বাড়ির চারপাশ ভালোভাবে তল্লাশি করা হোক, যেন নিশ্চিত হওয়া যায় আর কোনো বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা নেই।
- বিষয় :
- ককটেল