ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মাদক সেবনে নিষেধ করায় মাদকসেবী অপবাদ, মব করে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা

মাদক সেবনে নিষেধ করায় মাদকসেবী অপবাদ, মব করে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা
×
×

গ্রেপ্তার দুই কিশোর

চাটখিল (নোয়াখালী) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:৪৪ | আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:৪৫

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মাদক সেবনে নিষেধ করায় রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ তৈরি করে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। রোববার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিক উল্লাহর আদালতে তারা জবানবন্দি দেয়।

গ্রেপ্তার দুই কিশোরের একজনের বয়স ১৬ ও আরেকজনের (১৭)। 

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন রাত ১১টা থেকে পরদিন রাত ১টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে শাকতলা ছিদ্দিকিয়া আলিয়া মাদ্রাসার পূর্ব পাশে এবং পরে নদোনা আছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে ফয়েজ আহাম্মদকে মারধর করা হয়। পূর্বশত্রুতার জেরে মাদকসেবীর অপবাদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ তৈরি করে তাঁকে লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাঁকে রাস্তায় ফেলে চলে যায় অভিযুক্তরা।

স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় ফয়েজকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ১২ জুন সোনাইমুড়ী থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন নিহতের স্বজন। মামলায় সবুজ (২২), মনা (২৫) ও জামালসহ (২৬) অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্বউদ্যোগে তদন্তের দায়িত্ব নেয়। উপপরিদর্শক ফরিদ উদ্দিনকে তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়।

পিবিআই জানায়, এক মাসের বেশি সময় ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নথিপত্র বিশ্লেষণ ও তদন্তের পাশাপাশি কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় রোববার ভোর পৌনে ৩টার দিকে শাকতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এজাহারবহির্ভূত দুই কিশোরকে আইনি হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে বিকেলে তাদের আদালতে হাজির করা হলে দুজনই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

তদন্তে পিবিআই আরও জানতে পারে, ওই দুই কিশোর নিজ এলাকা ও আশপাশের এলাকার কিশোরদের নিয়ে একটি দল গড়ে তুলেছিল। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, অরাজক পরিস্থিতি তৈরি এবং ‘মব’ সৃষ্টির মাধ্যমে জনশান্তি বিঘ্নিত করার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ফয়েজের সঙ্গে তাদের ও সহযোগীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

নোয়াখালী পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×