ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

ভাণ্ডারিয়ার ঘরে ঘরে ডেঙ্গু জ্বর ও ডায়রিয়া

ভাণ্ডারিয়ার ঘরে ঘরে ডেঙ্গু জ্বর ও ডায়রিয়া
×

ভাণ্ডারিয়ায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ফগার মেশিন দিয়ে স্প্রে করা হচ্ছে। ছবি: সমকাল

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) ও ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩০

ইয়াসিন আরাফাতের কয়েক দিন ধরেই জ্বর। গত শনিবার পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। গতকাল রোববার তাঁকে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন ভাই সানাউল্লাহ। তিনি জানালেন, উপজেলার ঘরে ঘরেই ডেঙ্গু জ্বর ছড়িয়ে পড়েছে। 

এ কথার সত্যতা মেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এদিন ৫১ শয্যার এই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন শতাধিক রোগী। তাদের মধ্যে ৩২ জনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত, যাদের ১৮ জন ভর্তি হন গতকাল। সানাউল্লাহর ভাষ্য, ডেঙ্গুর পাশাপাশি তাঁর এলাকায় দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া। সাধারণ মানুষ চিকিৎসা করাতে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি সৌভাগ্যবশত ভাইয়ের জন্য শয্যা পেয়েছেন। 

এদিন নির্ধারিত ডেঙ্গু ওয়ার্ডের গণ্ডি পেরিয়ে বাইরে মেঝেতে শয্যা পেতেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত নাসির সরদারের সঙ্গে এসেছিলেন ছেলে মো. রণি সরদার। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা গত শনিবার ডেঙ্গু ও ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এখন ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু লাবিব ইসলামকে নিয়ে বারান্দায় শয্যা পাতেন মা সুমাইয়া আক্তার। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা শয্যা নেই বলে জানিয়েছেন। বাধ্য হয়ে মেঝেতে রেখেই ছেলের চিকিৎসা করাচ্ছেন। তার পাশে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত আরও কয়েকটি শিশুকে এভাবে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।

আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. কামাল হোসেনের দেওয়া তথ্যমতে, কয়েক দিন ধরে দিনে ২৫-৩০ জন ডেঙ্গু রোগী সেবা নিতে আসছেন। কোনো কোনো দিন এই সংখ্যা ৬০-৭০ জনেও পৌঁছায়। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের ৪২ জনকে ভর্তি করা হয়। এদের ১৮ জনই ডেঙ্গু রোগী। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত তারা ৬০৭ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন। গুরুতর রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইব্রাহীম মোল্যার ভাষ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সংকট না থাকলেও তাদের মূল চ্যালেঞ্জ চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ জনবলের ঘাটতি। তবু কর্মরত সবাই সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।

ভৈরবের ২ নম্বর ওয়ার্ড ডেঙ্গুর ‘হটস্পট’

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। তারা সকালে বাগানবাড়ী রোড মনামারা ব্রিজসংলগ্ন এলাকা ও আইস কোম্পানির মোড়ে কর্মসূচি পালন করেন। সেখানে বক্তারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবহেলা ও মশক নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত এখানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৬০ জন ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে ভর্তি হন ২২৬ জন। তাদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেছেন। 

২ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর ভাষ্য, ডেঙ্গুতে ভৈরব হাসপাতালে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনই এই এলাকার বাসিন্দা। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেছেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৯ জন বাসিন্দা। 

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জাহিদুল হক জাবেদ বলেন, ভৈরবে ডেঙ্গু মহামারি রূপ নিয়েছে। শহরের প্রতিটি বাড়িতে ডেঙ্গু রোগী রয়েছেন। পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে ৪-৫ জন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এই ওয়ার্ডের ২০-২৫ জন ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন।

এখানে ডেঙ্গু বাড়ার কারণ হিসেবে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ২ নম্বর ওয়ার্ডে ছোট ছোট ময়লার একাধিক স্তূপের পাশাপাশি দুটি বড় ভাগাড় রয়েছে। বাগানবাড়ী রোড মনামারা ব্রিজ-সংলগ্ন এলাকা ও ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন রোডের পাশের ময়লার স্তূপ থেকে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে। এসব ময়লার স্তূপের বিষয়ে প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না করলে ডেঙ্গুই শুধু নয়, অন্যান্য রোগব্যাধিও ছড়াবে।

সড়ক অবরোধের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক। তিনি বলেন, এই ওয়ার্ডের ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতোমধ্যে স্টেশন এলাকার ভাগাড় অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে মনামারা ব্রিজ-সংলগ্ন এলাকার ভাগাড়ও সরিয়ে নেওয়া হবে। ময়লা ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধানে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণসহ বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তুতি চলছে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কিশোর কুমার ধর বলেন, তারা ডেঙ্গু মোকাবিলা ও আক্রান্ত রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন

×