হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ভিড়
সংকটাপন্ন রোগীদের পাঠানো হচ্ছে পাবনা-রাজশাহীতে
ছবি-সংগৃহীত
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:৩৯
পাবনার ঈশ্বরদীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। গত ১০ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ শহরের সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে রোগীর ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ মিলিয়ে কেবল সরকারি হাসপাতালেই প্রতিদিন ৫০ জনেরও বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। এর বাইরে শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও শতাধিক মানুষ।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শহরের গণ্ডি পেরিয়ে উপজেলার প্রত্যন্ত ইউনিয়ন ও গ্রামগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু ও টাইফয়েডের প্রাদুর্ভাব। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাদের পাবনা সদর হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা ঢাকায় স্থানান্তর (রেফার) করতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
গ্রামাঞ্চলে প্রাদুর্ভাব বাড়ায় প্রাথমিক অবস্থায় রোগীরা স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। সেখানে সুস্থ না হয়ে অবস্থা জটিল হলে শেষ মুহূর্তে ছুটে আসছেন শহরের হাসপাতালগুলোতে। ঈশ্বরদীর ইম্পেরিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. নাজমুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন তাঁর চেম্বারে গড়ে ৭ থেকে ১০ জন ডেঙ্গু রোগী আসছেন। পল্লী চিকিৎসক সাহানুর ইসলাম জানান, জ্বরের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উদ্বেগ না ছড়িয়ে সচেতনতার আহ্বান জানিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সাহেদ ইমরান বলেন, ‘ডেঙ্গু মানেই প্লাটিলেট কমে যাওয়ার আতঙ্কে না ভুগে শুরুতেই সঠিক ও সময়মতো চিকিৎসা নিলে খুব সহজেই সুস্থ হওয়া সম্ভব।’
পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. কাবেরি সাহা জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও প্রতিদিন ২-৩ জন ডেঙ্গু রোগী আসতেন। এখন তা বেড়ে অর্ধশত ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্তের হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে হাসপাতালে আলাদা ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।