চুয়েটে ২০ দিনেও কাটেনি অচলাবস্থা, সেশনজটের আশঙ্কা
ছবি: সমকাল
চুয়েট সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ০০:০৭
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পদ নিয়ে অচলাবস্থা কাটেনি। ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও ক্যাম্পাসে আসেননি নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে দুই দিনের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পেয়েছেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমান। তবে তিনিও প্রথম দিন রোববার দাপ্তরিক কাজ শুরু করেননি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল এবং অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও একই দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
রোববার বেলা ১১টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী কমিটির জরুরি সভায় অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত পূর্ব ঘোষিত পূর্ণ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ২০ দিনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল, মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন, মুখোশ মিছিল, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, প্রতিবাদী কনসার্টসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেছেন তারা। এতে সেশনজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নিয়োগের পর অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে জানা যায়। তবে এর পর থেকে ক্যাম্পাসে তাঁর সরাসরি উপস্থিতি কিংবা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। এদিকে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে ১১ ও ১২ অক্টোবরের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয় যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে। তবে তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের ফোনে একাধিকবার কল করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। রুটিন উপাচার্যের দায়িত্ব পাওয়া অধ্যাপক আরাফাত রহমান বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অচলাবস্থায় আমি কোনো দাপ্তরিক কাজ করিনি। উপাচার্যও আমাকে এই ধরনের কোনো নির্দেশনা দেননি।’ দায়িত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, এই দায়িত্বটা মূলত কাগজে-কলমেই ছিল।
- বিষয় :
- চুয়েট