ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

দেশি-বিদেশি পর্যটক টানতে কক্সবাজারে তিন মাস পর্যটন কার্নিভাল

দেশি-বিদেশি পর্যটক টানতে কক্সবাজারে তিন মাস পর্যটন কার্নিভাল
×
×

ইব্রাহিম খলিল মামুন, কক্সবাজার

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৪৬

পৃথিবীর দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে। যেখানে প্রতিটি ঢেউ নিয়ে আসে নতুন গল্প, নতুন আনন্দ আর নতুন অভিজ্ঞতা। এই আনন্দ উপভোগ করতে প্রতিবছর ৭০ থেকে ৮০ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেন। তবে বিদেশি পর্যটক খুবই কম।

পর্যটকদের অভিযোগ, কক্সবাজারে সমুদ্র উপভোগ ছাড়া বিনোদনের আর কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই তারা ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করে কক্সবাজার ছেড়ে যান। এসব বিবেচনায় নিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটক টানতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে তিন মাসব্যাপী ‘কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’ আয়োজন করেছে পর্যটন করপোরেশন। কক্সবাজার শহরের হোটেল শৈবালের সমুদ্রসৈকত ও ঝাউবনের বিস্তৃত প্রান্তরে ৩৫ একর জায়গাজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে এই কার্নিভাল। আগামী ১ নভেম্বর শুরু হয়ে এই আয়োজন চলবে ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য দিনে ও রাতে নানা ধরনের বিনোদনমূলক আয়োজন থাকছে এই কার্নিভালে।

কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল উদযাপনের লক্ষ্যে গত সোমবার পর্যটন সংশ্লিষ্ট অংশীজনকে নিয়ে এক মতবিনিময় সভা করে পর্যটন করপোরেশন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নানের সভাপতিত্বে এই সভায় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না, পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক (বাণিজ্যিক) গনী উল আজম, পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আব্দুর রউফ মিয়া, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, কক্সবাজারকে ব্যতিক্রমী আবহে উপস্থাপন এবং বিদেশি পর্যটকের আগমন বাড়ানোর লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক মানের এই কার্নিভাল আয়োজন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কক্সবাজার বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। বিগত বছরগুলোতে এখানে বছরজুড়ে পর্যটকের আনাগোনা থাকলেও বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা তেমন বাড়েনি। তাই ‘হলিডে সিজনে’ লাখো পর্যটকের প্রাণচাঞ্চল্যে এবার কক্সবাজারে বিশেষ আয়োজন থাকছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এবং স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিচালনায় এই কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, কার্নিভালের মূল আকর্ষণগুলোর মধ্যে ফুড জোনে থাকছে দেশি-বিদেশি খাবার, লাইভ ফুড স্টল, বারবিকিউ, আইসক্রিম পার্লার ও জুস কর্নার। মার্কেট জোন ও ক্র্যাফট ভিলেজে থাকছে পোশাক, অলংকার, মাটির পণ্য ও স্থানীয় কারিগরদের হাতে তৈরি শিল্প। ওয়েলনেস জোনে থাকছে সূর্যোদয়ের সঙ্গে যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন। কিডস জোনে থাকছে আর্ট, নিরাপদ রাইড ও হরেক রকমের মজার কার্যক্রম। ক্যাম্পিং জোনে থাকছে নাইট-স্টে ক্যাম্পিং, ওপেন-স্কাই লাইব্রেরি, সেলফ-বারবিকিউ, হ্যামক, ক্যাম্পফায়ার এবং টেলিস্কোপে তারাভরা আকাশ দেখার অভিজ্ঞতা। এ ছাড়া থাকছে লাইভ আর্ট ও ফটো গ্যালারি, ওপেন-স্কাই মুভি থিয়েটার, ভিআর জোন, সার্কাস টেন্ট, কায়াকিং, লাইভ-বাঞ্জিং, গো-কার্ট, বিচ ফুটবল, বিচ হ্যান্ডবল, বিচ ভলিবল, বিচ কাবাডি, ব্যাডমিন্টন ও স্যান্ড স্কাল্পচার। বিশেষ দিনের উদযাপনে থাকছে বিজয় দিবস উদযাপন, হ্যাপি নিউ ইয়ার ও হলি ক্রিসমাস। আরও থাকছে বিচ ভিউ ওপেন থিয়েটার, যেখানে প্রিয়জনের সঙ্গে সমুদ্রের সামনে, সূর্যাস্তের সোনালি আলো আর বাঁশির সুরে হারিয়ে যাওয়ার নতুন অভিজ্ঞতা।

পর্যটন করপোরেশনের মালিকানাধীন হোটেল শৈবালের ব্যবস্থাপক রায়হান উদ্দিন আহমেদ বলেন, তারা শুধু একটি কার্নিভাল আয়োজন করতে চান না। তাদের চাওয়া কক্সবাজারের পর্যটন অভিজ্ঞতায় একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হোক। সমুদ্র থাকবে, সূর্যাস্ত থাকবে, ঝাউবন থাকবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে খাবার, সংগীত, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা, অ্যাডভেঞ্চার এবং পারিবারিক বিনোদন।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল শুক্কুরের ভাষ্য, থাইল্যান্ডের ফুকেট-পাতায়া, মালয়েশিয়ার লংকাউই, ভারতের গোয়া, ইন্দোনেশিয়ার বালি, নেপাল, ভুটানসহ বিশ্বের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে রাতের বিনোদন ও লাইভ মিউজিক থাকে। বিদেশি পর্যটক টানতে কক্সবাজারেও রাত্রিকালীন বিনোদন বাড়ানো দরকার।

সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না বলেন, কক্সবাজারের পর্যটনকে বিশ্বময় করার প্রক্রিয়া নির্ধারণে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে একটি শক্তিশালী কমিটি করা হয়েছে। অতীতে কী হয়েছে তা নিয়ে পড়ে না থেকে সবার সমন্বিত পরামর্শ নিয়ে সামনে এগোতে চান তারা। এভাবেই কক্সবাজার অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।

আরও পড়ুন

×