ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

অশীতিপর দম্পতির দিন কাটে খাবারের চিন্তায়

অশীতিপর দম্পতির দিন  কাটে খাবারের চিন্তায়
×
×

ধামরাইয়ের দুনিগ্রামের অশীতিপর দম্পতি হানেছ আলী ও সুফিয়া আক্তার লেখক

মোকলেছুর রহমান, ধামরাই (ঢাকা) 

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রায় ১৭ বছর আগে একে একে দুই ছেলেই মারা যান হানেছ আলী (৮৯) ও সুফিয়া আক্তার (৭৯) দম্পতির। এরপর মারা যান বড় ছেলের স্ত্রী। ভিক্ষা করে সংসার চালানোর পাশাপাশি শিশু নাতিকে লালনপালন করেছেন তারা। সেই নাতি এখন রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর সামান্য আয়ে তিনজনের সংসার চলে না। রোগেশোকে ন্যুব্জ অশীতিপর দম্পতির এখন দিন কাটে তিন বেলা খাবারের দুশ্চিন্তায়। 

ঢাকার ধামরাইয়ের বালিয়া ইউনিয়নের দুনিগ্রামে তাদের বসবাস। বাড়ি বলতে ভাঙাচোরা একটি ঘর। উপরে টিনের চাল, বাঁশ ও পাটখড়ির ভাঙাচোরা বেড়া। নেই বিদ্যুৎ, নলকূপ ও শৌচাগারের ব্যবস্থা। যেতে হয় পাশের বাড়ির টয়লেটে। রাত হলে বৃদ্ধ দম্পতির পক্ষে সেটিও সম্ভব হয় না।
স্থানীয়রা জানান, হানেছ আলীর বড় ছেলে জুলমত আলী বালু তোলার নৌকায় কাজ করতেন। একদিন তিনি নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনে নেমে আর উঠে আসেননি। এর কিছুদিন পর জুলমতের স্ত্রী আরেফা আক্তার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি রেখে যান আশিকুর রহমান নামে চার বছরের এক শিশু সন্তান। এরপর শ্বাসকষ্টজনিত রোগে মারা যান হানেছ আলীর ছোট ছেলে সোহরাব আলী।
একমাত্র মেয়ে জুলেখা বেগমের বিয়ে হয়েছে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর সঙ্গে। পোশাক কারখানায় কাজ করে চারজনের সংসার চালান জুলেখা। সীমিত আয় থেকে মা-বাবাকে সাহায্য করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয় না।
বৃদ্ধ দম্পতি নাতি আশিকুর রহমানকে এইচএসসি পাস করিয়েছেন। অর্থের অভাবে থেমে গেছে তাঁর লেখাপড়া। এখন তিনি যখন যে কাজ পান, সেটাই করেন। কখনও রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন। তাঁর সামান্য আয়ে সংসার চলে না। এ অবস্থায় গ্রামবাসীর সহানুভূতি ও আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয় পরিবারটিকে।
জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তাদের দিন কাটছে অভাব আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। এই বৃদ্ধ বয়সে তাদের চাওয়া বেশি কিছু নয়– একটু নিরাপদ আশ্রয়, দুবেলা খাবার আর মানুষের সামান্য সহানুভূতি। হানেছ আলী বলেন, ‘নাতির একটা চাকরি ও একটি ঘর পেলে বাকি জীবনটা একটু শান্তিতে কাটাতে পারতাম।’

প্রতিবেশী জিয়াউর রহমান বলেন, দিনের বেলায় তারা আমাদের বাড়ির টয়লেট ব্যবহার করেন। কিন্তু রাতের বেলায় বা ঝড়বৃষ্টি ও বেশি শীতের তাদের বেশ সমস্যা হয়। তাদের কষ্ট দেখলে অনেক খারাপ লাগে।
বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য মুক্তা আক্তার বলেন, তাদের দুজনকে বয়স্ক ভাতা দেওয়া হয়। এ টাকায় তাদের দুবেলা খাবারও জোটে না। বৃদ্ধার জরায়ুতে সমস্যা রয়েছে। তাদের চিকিৎসা ও একটি ঘর জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা একেবারেই অসহায়। সমাজের বিত্তবান, মানবিক মানুষ ও সরকারিভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানো গেলে জীবনের শেষ সময়টুকু হয়তো তারা একটু স্বস্তিতে কাটাতে পারবেন।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, সামাজিক মাধ্যমের একটি পোস্ট থেকে তিনি বৃদ্ধ দম্পতি সম্পর্কে জেনেছেন। তাদের সার্বিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এ দম্পতির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। 
 

আরও পড়ুন

×