ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের চতুর্থ চালানের ইউরেনিয়াম

রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের চতুর্থ চালানের ইউরেনিয়াম
×
×

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানির চতুর্থ চালান পৌঁছেছে। ছবি: সমকাল

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ও পাবনা অফিস

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:২৬

পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানির চতুর্থ চালান পৌঁছেছে। শনিবার সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনটি কাভার্ড ভ্যানে করে জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

শুক্রবার রাশিয়া থেকে ভারতের দিল্লি হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় ইউরেনিয়ামের চালানটি। সেখানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা জ্বালানি গ্রহণ করেন। পরে শনিবার ভোরে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় বিমানবন্দর থেকে রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয় কাভার্ড ভ্যানগুলো। যমুনা সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া এবং ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া মোড় হয়ে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। পথে মহাসড়কের বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও।

ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, যানজট এড়াতে জ্বালানি পরিবহনের সময় মহাসড়কে ভারী যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পুরো পথে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি সাতটি চালানে আনার কথা রয়েছে। এ ছাড়া প্রথম ইউনিটের জ্বালানি প্রতিস্থাপনের জন্য আরও ৪৮টি অ্যাসেম্বলি দুই চালানে আমদানি করা হবে। দ্বিতীয় ইউনিটের চতুর্থ চালানটি শনিবার সকালে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে রাশিয়া থেকে আরও পাঁচটি ফ্লাইটে জ্বালানি আসার কথা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটম জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে।

প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান দেশে আসে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। ওই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে আরও চারটি চালান আসে। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি লোডিং শেষ হয়। প্রায় দেড় বছর পর ব্যবহৃত জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। এ জন্য প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানির একটি চালান গত ৩ অক্টোবর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ইউনিটের তৃতীয় চালান পৌঁছেছিল গত ২৭ অক্টোবর সকালে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া রূপপুরের জন্য জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর নির্দিষ্ট সময় পরপর জ্বালানি প্রতিস্থাপনের জন্য বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

এদিকে, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হলেও কারিগরি জটিলতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে দেরি হচ্ছে। ২০২৬ সালের আগস্টে উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও স্বয়ংক্রিয় চাপমুক্তি নিরাপত্তা ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা পিছিয়ে যায়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভালভটির তৃতীয় দফার পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর ১১ অক্টোবর রিঅ্যাক্টরে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া শুরু করেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বি-২ পর্যায়ের ফিজিক্যাল পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

বৃহস্পতিবার পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর প্রথম ইউনিট স্টার্টআপ স্টেজ-সি বা পাওয়ার স্টার্টআপ পর্যায়ে প্রবেশ করে। এ পর্যায়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সিস্টেমের কার্যকারিতা যাচাই করতে ধারাবাহিক পরীক্ষা চলছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে নভেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে আশা করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহিদুল হাসান প্রথম ইউনিটে স্টার্টআপ স্টেজ-সি কার্যক্রম শুরুর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ পর্যায়ে কারিগরি পরীক্ষা, বিভিন্ন সিস্টেমের কার্যকারিতা যাচাই এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত থাকায় সেটির নির্মাণ ও চালুকরণ কার্যক্রমও এগিয়ে যাচ্ছে।
 

আরও পড়ুন

×