ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কোলন পরিষ্কারের উপায়

প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কোলন পরিষ্কারের উপায়
×
×

প্রতীকী ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:৩৮

কোলন আমাদের শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ ও বর্জ্য বের করে দিতে সাহায্য করে। এটি প্রয়োজনীয় লবণ (সোডিয়াম) ও পানি শোষণ করে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। যদিও নিয়মিত মলত্যাগের মাধ্যমে শরীর থেকে বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায়, তবুও কোলনের দেয়ালে আটকে থাকা বিষাক্ত পদার্থগুলো দূর করার জন্য নিয়মিত কোলন পরিষ্কার রাখা জরুরি। কোলন ভালোভাবে পরিষ্কার না হলে, এর দেয়ালে বিষাক্ত পদার্থ জমতে থাকে, যা ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, সর্দি, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বদহজম, জয়েন্টে ব্যথা, অ্যালার্জি, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মানসিক চাপ এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যার মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হলে, এটি কিডনি ও লিভারের মতো গুরুতর রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রাকৃতিক উপায়ে কোলন পরিষ্কার করার পদ্ধতি
কোলন পরিষ্কার করা বলতে মূলত কোলনের ভেতর আটকে থাকা বিষাক্ত পদার্থগুলো দূর করাকে বোঝায়। এটি করা বেশ সহজ; কোলন পরিষ্কার করার জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এবং চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। এর খরচ নির্ভর করে ব্র্যান্ড এবং চিকিৎসা পদ্ধতির ধরনের ওপর।

এছাড়া কিছু প্রাকৃতিক উপায়ও রয়েছে যা আপনি ঘরে বসেই অনুসরণ করতে পারেন। এগুলোর উপকরণ সহজেই পাওয়া যায়, এগুলো নিরাপদ এবং সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কোনো ভয় নেই!

নিয়মিত ফাইবারসমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফল খান
শাকসবজি কোলনে আটকে থাকা বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর। ফাইবারসমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি নিয়মিত বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে কোলনকে পরিষ্কার রাখে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফাইবারসমৃদ্ধ ফল—যেমন আপেল, রাস্পবেরি, শুকনো বরই , নাশপাতি ইত্যাদি রাখুন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন শাকসবজি যেমন- ব্রকলি, পালং শাক,মটরশুঁটি ইত্যাদি রাখা জরুরি। নিয়মিত এগুলো খেলে কোলনে বিষাক্ত পদার্থ জমতে পারে না। আপনি এগুলো কাঁচা খেতে পারেন, স্মুদি তৈরি করতে পারেন, অথবা কোনো রান্নার প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

 ত্রিফলা 
আয়ুর্বেদে কোলন পরিষ্কার করার জন্য ত্রিফলার ব্যবহার খুবই জনপ্রিয়। 'ত্রিফলা' শব্দটি এসেছে 'ত্রি' (তিন) এবং 'ফলা' (ফল) থেকে। এটি বহেরা, হরিতকী এবং আমলকী—এই তিনটি ফলের সমন্বয়ে গঠিত। ত্রিফলায় থাকা লিনোলিক অয়েল, ভিটামিন সি, ফসফোলিপিড এবং বায়োফ্ল্যাভোনয়েড অন্ত্রের নড়াচড়াকে উদ্দীপিত করে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ ও বর্জ্য বের করে দিতে সাহায্য করে। এর পুষ্টিগুণও রয়েছে। শরীর থেকে বর্জ্য বের হওয়ার সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলো যেন শরীর থেকে বেরিয়ে না যায় সেটাও নিশ্চিত করে ত্রিফলা। এক গ্লাস পানিতে এক টেবিল চামচ ত্রিফলা মিশিয়ে নিন এবং প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পান করুন।

সামুদ্রিক লবণ ( সোডিয়াম ক্লোরাইড)
যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এই পদ্ধতিটি নয়। ছুটির দিনে এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করা সবচেয়ে ভালো, যাতে আপনাকে অফিস বা অন্যান্য জরুরি কাজের জন্য বাইরে যাওয়ার চিন্তা করতে না হয়। এই প্রক্রিয়াটির পর আপনার পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন হবে।

পদ্ধতিটি হলো

একটি গ্লাস ভর্তি পানি একটি পাত্রে ঢেলে ফুটিয়ে নিন।
পানি ফুটতে শুরু করলে তাতে এক টেবিল চামচ সামুদ্রিক লবণ দিন এবং আরও কিছুক্ষণ ফুটতে দিন।
কিছুক্ষণ পর পাত্রটি চুলা থেকে নামিয়ে সামান্য ঠান্ডা হতে দিন।
ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পানিটুকু পান করুন।
লবণ পানি পান করার পর কিছুটা বমি বমি ভাব হতে পারে, তাই শুয়ে বিশ্রাম নিন।
আপনি চাইলে আলতো করে পেটে মালিশ করতে পারেন। এরপর আপনার টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন অনুভব হতে পারে।  সাধারণ পানি পান করা চালিয়ে যান। মাঝে মাঝে আপনি চাইলে তাজা ফলের রস বা স্মুদি তৈরি করে পান করতে পারেন। 

প্রতিদিন একটি আপেল খান
কথায় আছে, ‘প্রতিদিন একটি আপেল খেলে ডাক্তার থেকে দূরে থাকা যায়’। এই কথাটির মধ্যে সত্যতা রয়েছে। আমাদের কোলনে জমে থাকা বিষাক্ত উপাদানগুলো দূর করতে তাজা আপেল অত্যন্ত কার্যকর।

প্রচুর পরিমাণে আপেলের রস পান করুন

এক গ্লাস আপেলের রস পান করে নিজেকে সতেজ রাখুন। প্রচুর পরিমাণে আপেলের রস পান করুন। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এক গ্লাস তাজা আপেলের রস পান করুন। এরপর এক গ্লাস উষ্ণ পানি পান করুন। প্রতিদিন অন্তত তিন থেকে চার গ্লাস তাজা আপেলের রস পান করলে তা শরীর থেকে বর্জ্য নিষ্কাশন এবং মলত্যাগের প্রক্রিয়াকে উন্নত করে।

আপেলের রসের স্বাদে একঘেয়েমি চলে এলে লেবুর রস মেশাতে পারেন। এক গ্লাস তাজা আপেলের রসে দুই টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে দেখতে পারেন। আপেলের রসের সাথে লেবুর রস মেশালে তা মলের মধ্যে থাকা মিউকাসকে পাতলা করতে সাহায্য করে।

পানি
সবকিছুর সেরা হলো পানি। কোলন পরিষ্কার করার জন্য পানি অন্যতম কার্যকর উপায়। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেন সঠিকভাবে কাজ করতে পারে, সেজন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করে শরীরকে আর্দ্র রাখা জরুরি। প্রতিদিন আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সকালে হালকা গরম পানি, তাজা লেবুর রস এবং সামান্য মধু মিশিয়ে পান করার চেষ্টা করুন। এটি আপনার বিপাকক্রিয়াকে উন্নত করবে এবং অন্ত্রে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করবে, যা কোলন পরিষ্কার করার জন্য অত্যন্ত জরুরি। দিনের বাকি সময় সাধারণ পানি পান করতে পারেন। সূত্র: হেলদিবিল্ডার্জড
 

আরও পড়ুন

×